Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

রাশিয়া-আমেরিকা চুক্তি শেষ, পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা

সাইরুল ইসলাম

সাইরুল ইসলাম

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ১৬
রাশিয়া-আমেরিকা চুক্তি শেষ, পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। আজকের দিনটি বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদ শেষ হচ্ছে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির। গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের দুই পরাশক্তি আমেরিকা ও রাশিয়া এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে, যেখানে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের ওপর কোনো আইনি সীমাবদ্ধতা নেই।

Advertisement

বিশ্ব কি তবে সেই স্নায়ুযুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলোতে ফিরে যাচ্ছে? যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মূল ভিত্তি ছিল ‘পারস্পরিক ভারসাম্য’। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছিল, রাশিয়া ও আমেরিকা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করতে পারবে না। অর্থাৎ, পরমাণু অস্ত্রেরও একটা সীমা রাখা হয়েছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার মধ্যেও মস্কো ও ওয়াশিংটন এই একটি বিষয়ে একমত ছিল। আর তা হলো, পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে অনিয়ন্ত্রিত হতে দেওয়া যাবে না। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের পারমাণবিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করার সুযোগ পেত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অর্থাৎ, কেউ লুকিয়ে কোনো অস্ত্র বানাচ্ছে কি না, তা সরাসরি দেখার অধিকার ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই পরিদর্শনের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন আরও ১২ মাসের জন্য বর্তমান শর্তগুলো মেনে চলতে, যাতে নতুন চুক্তির জন্য সময় পাওয়া যায়।

রাশিয়া-ইউক্রেন সমস্যা ‘সমাধানের পথে’, চুক্তিতে বড় পরিবর্তন চায় ক্রেমলিনukrain-donesk

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এই সময়ের সুযোগ নিয়ে তাদের নতুন কিছু ভয়ঙ্কর অস্ত্র তৈরি করছে। যেমন ‘ব্যুরভেস্টনিক’ ক্রুজ মিসাইল এবং ‘পসাইদন’ টর্পেডো, যা নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতার বাইরে।

এ ব্যাপারে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেন, “উত্তর না পাওয়াটাও এক ধরনের উত্তর।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিশ্বে সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের হাতে কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকার যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে যাচ্ছে, তার জন্য মস্কো তৈরি।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন মনে করছে, রাশিয়া যদি পরিদর্শন বা ইন্সপেকশন করতে না দেয়, তবে কেবল মুখের কথায় বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। তাই তারা চুক্তিতে আসছে না।

তবে সংকট আরও জটিল। কারণ, এতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে চীনের নাম জড়িয়ে আছে। বর্তমানে রাশিয়ার হাতে ওয়ারহেড আছে ৫ হাজার ৪৫৯টি এবং আমেরিকার হাতে ৫ হাজার ১৭৭টি। কিন্তু চীন এখন দ্রুত তাদের পারমাণবিক শক্তি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে তাদের কাছে ৬০০টি ওয়ারহেড আছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে পেন্টাগন।

আমেরিকা যে কারণে রাশিয়া ও চীনের কাছে আসতে চায়badrul alam khan 3

ট্রাম্প প্রশাসন চায় নতুন যেকোনো চুক্তি হতে হবে ত্রিপক্ষীয়–রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে নিয়ে। কিন্তু বেইজিং সরাসরি বলে দিয়েছে, তাদের অস্ত্রাগার অনেক ছোট। তাই এখনই এই আলোচনায় বসার কোনো মানে হয় না। এই ত্রিভুজ সম্পর্কের টানাপোড়েনে আজ ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি মৃতপ্রায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রবীণ অস্ত্র নিয়ন্ত্রক নিকোলাই সোকভ একটি ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছেন। বর্তমানে কেবল মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি জরুরি হটলাইন আছে। কিন্তু ন্যাটোর সদর দপ্তর কিংবা ইউরোপের অন্য কোনো রাজধানীর সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সরাসরি জরুরি যোগাযোগের লাইন নেই।

যদি ভুলবশত কোনো মিসাইল ফায়ার হয়, তবে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার মতো সময় বা সুযোগ কোনোটিই থাকবে না। এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত, পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো এবং বড় দেশগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।

নিউ স্টার্ট চুক্তি কেবল একটি কাগজ ছিল না, এটি ছিল এক প্রকার নিরাপত্তা কবজ। আজকের তারিখটি যদি বিশ্বনেতারা আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসার দিন হিসেবে বেছে নেন, তবে মানবজাতি এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে পা বাড়াবে। যেখানে বিজয়ী কেউ থাকবে না, থাকবে শুধু ধ্বংসস্তূপ।

বিষয়: রাশিয়াআমেরিকাচুক্তিমার্কিন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ