
বর্তমান তেল সংকটেও সদ্য নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের পক্ষ থেকে একই ধরনের আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকারি ভাষ্যেই স্পষ্ট যে, অবৈধভাবে তেল মজুতের ঘটনা ঘটছে। অভিযান চালানোর পর সেসবের কিছু কিছু ধরা পড়ার খবরও মিলছে।

এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না—এর সরাসরি উত্তর এখনো মেলেনি। তবে ভর্তুকির বাড়তি চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরাল।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জের বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে কেন পড়ছে? এ সংকট কতটা বাস্তব, কতটা তৈরি করা? এর পেছনের কারণ কী? বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যথাযথ তথ্য উপস্থাপন করছে না। তাদের এই তথ্যঘাটতিই কি সংকটের মূল কারণ? জ্বালানি তেল নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা শঙ্কা কাটাতে সরকার কী করছে?

সরকারি ছুটির দিনেও প্রধান স্থাপনা ও ডিপো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিপিসি। ফলে এখন থেকে শুক্র ও শনিবারও বিপিসির তেল ডিপো খোলা থাকবে।

দেশের জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

রাইড শেয়ারিং সেবায় নিয়োজিত মোটরসাইকেলগুলোর জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর আগে এই সীমা দুই লিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বিপিসি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তবে প্রধান জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করছে বলে মনে করেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের দাবি করা হলেও জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যানবাহনভিত্তিক দৈনিক বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি।

বিইআরসির শুনানি কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণশুনানিতে অংশ নিতে চাইলে ২২ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।