Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

ইউক্রেন: পুতিন দক্ষতার সঙ্গে ট্রাম্পকে খেলাচ্ছেন

স্টেফান উলফ ও তেতিয়ান মালিয়ারেনকো

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১৯: ৫৫
ইউক্রেন: পুতিন দক্ষতার সঙ্গে ট্রাম্পকে খেলাচ্ছেন

গত সপ্তাহে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও রাশিয়ার ইউক্রেনবিরোধী যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান ঘুরিয়ে ফেললেন। এটি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক পরিচিত আচরণের ধরন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি রাগ ও হতাশা প্রকাশ করেন, তারপর ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেন।

Advertisement

কিন্তু শেষ পর্যন্ত-সাধারণত পুতিনের সঙ্গে কোনো ফোনালাপের পরই তিনি আবার এমন কোনো ‘ইতিবাচক দিক’ খুঁজে পান যা কেবল তার নিজের মতে যৌক্তিক এবং তাতে তিনি পুতিনের ছন্দে নাচতে শুরু করেন।

এই পূর্বানুমেয় নাটকের সর্বশেষ পর্বটি ঘটেছে এভাবে। সেপ্টেম্বরে যখন ট্রাম্প (এখনো) ব্যর্থভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নিজেকে প্রার্থী করার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন, তখন তিনি ইউক্রেনের সম্ভাব্য বিজয়ের কথা বলতে শুরু করেন। তার মতে, ইউক্রেনের জয় মানে, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে রাশিয়ার দখলে যাওয়া সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হঠাৎই আলোচনায় আসে ইউক্রেনকে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনকে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার ক্ষমতা দিত। যা এখন পর্যন্ত তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে নেই। ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ১১ ও ১২ অক্টোবর দুবার ফোনে কথা বলেন এ নিয়ে। ১৭ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর একটি চুক্তি ঘোষণা আসার কথা ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু বৈঠকের আগের দিনই (ক্রেমলিনের অনুরোধে বলে মনে করা হয়) ট্রাম্প পুতিনের ফোন রিসিভ করেন। দুই ঘণ্টার সেই কথোপকথনে পুতিন প্রশংসা ও বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পকে রাজি করান ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র না দেওয়ার ব্যাপারে পিছিয়ে আসতে।

পরদিন ঝেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলকে এ কথা জানানো হয়। যদিও এটি গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে তাদের প্রথম বৈঠকের মতো অপমানজনক ছিল না। তবু ইউক্রেনের জন্য এটি স্পষ্ট এক ধরনের পরাজয়।

শুধু টমাহকই নয়, কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা আবারও আগের জায়গায় ফিরে গেছে। আসলে যেখানে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি ‘চুক্তির সম্ভাবনা’ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে, কর্মকর্তারা আগে থেকে দুটি আলাদা চুক্তির খসড়া তৈরি করবেন। যেগুলো শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প-পুতিনের আরেক বৈঠকে (সম্ভবত বুদাপেস্টে) চূড়ান্ত হবে।

প্রথম হবে শান্তি চুক্তির সাধারণ কাঠামো নিয়ে। বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের উচিত বর্তমান অবস্থান মেনে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করা।’ অর্থাৎ, ট্রাম্প এমন এক সমঝোতার ভিত্তিতে আবারও যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী যেখানে ইউক্রেনকে তার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডের প্রায় ২০% হারাতে হবে। যা ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

দ্বিতীয় চুক্তি হবে ওয়াশিংটন-মস্কোর সম্পর্ক পুনর্গঠন নিয়ে। এটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের লক্ষ্য। এর মানে হলো রাশিয়া, এমনকি তার সহযোগী দেশ ভারত ও চীনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আপাতত আসছে না।

ঝেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফরের আগে নভেম্বরেই যুদ্ধবিরতির আশা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প-পুতিনের আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কোনো উল্লেখ নেই। বরং যুদ্ধ থামানোকে নির্ভরশীল করছে ট্রাম্প ও পুতিন– এই দুই প্রেসিডেন্টের চুক্তির ওপর। যা ঝেলেনস্কিকে পরে মেনে নিতে হবে।

এর ফলে ইউক্রেনের ওপর চাপ আরও বাড়বে। দেশটি প্রতিদিনই রাশিয়ার হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হারাচ্ছে। যা অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। সামনে আরও একটি কঠিন শীতের ইঙ্গিত মিলছে।

নভেম্বরেই যুদ্ধবিরতির আশা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প-পুতিনের আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কোনো উল্লেখ নেই। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
নভেম্বরেই যুদ্ধবিরতির আশা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প-পুতিনের আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কোনো উল্লেখ নেই। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

রাশিয়ার কৌশল সময় ক্ষেপণ

ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে প্রতিকূল। তবে এটি কেবল ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার ফল নয়। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প যখন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান বদলাতে শুরু করেন, তখন থেকেই ক্রেমলিন পরিকল্পিতভাবে দুই প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার দিকে এগোয়। আর এই এগোনোর পথে ছিল উদ্বেগ, হুমকি ও চাটুকারিতার এক মিশ্রণ।

এই ঘনিষ্ঠতার লক্ষ্য রাশিয়ার জন্য কোনো ‘ভালো শান্তি চুক্তি’ নয়; পুতিনও জানেন সেটা অবাস্তব। মূল উদ্দেশ্য ছিল সময় ক্ষেপণ, যাতে রাশিয়া দোনবাস অঞ্চলে স্থলযুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে সম্ভাব্য ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের স্থান হিসেবে বুদাপেস্টকে বেছে নেওয়াটাও তাৎপর্যপূর্ণ। পুতিনকে সেখানে যেতে হলে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য বা প্রার্থী দেশগুলোর আকাশসীমা পেরোতে হবে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর ওপর চাপ পড়বে। তারা যদি অনুমতি না দেয়, তাহলে ট্রাম্পের ‘শান্তি উদ্যোগে বাধা’ হিসেবে দেখা হবে। ক্রেমলিন বহুদিন ধরেই এই কথা ছড়াচ্ছে, যা ন্যাটোর ঐক্য দুর্বল করার অংশ।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান যতই ইউক্রেনের জন্য হতাশাজনক হোক, তা তাদের পরাজয়ের ইঙ্গিত নয়। ইউক্রেনে এখন পূর্ণমাত্রায় সেনা সমাবেশ চলছে। দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ছে। ন্যাটোর অর্ধেকেরও বেশি দেশ ইউক্রেনকে আরও মার্কিন অস্ত্র দিতে সম্মত হয়েছে।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্থিরতা থেকে তিনটি শিক্ষা

প্রথমত, ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার সম্ভাবনার খবরই রাশিয়ার ভেতরে একপ্রকার ভীতির সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে পুতিন নিজে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এটি রাশিয়ার দুর্বলতারই প্রমাণ।

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প ইউক্রেন বা ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য নির্ভরযোগ্য বন্ধু নন। তিনি এখনো ইউএস-রাশিয়া গোপন চুক্তির চিন্তা ছাড়েননি। এটা হলে ইউক্রেন ও ইউরোপের ক্ষতির বিনিময়ে হতে পারে।

তৃতীয়ত, ঝেলেনস্কি এই ব্যর্থ বৈঠকের পর হতাশ হলেও ইউক্রেন এখনো খেলায় আছে। ট্রাম্প যেমন বলেছিলেন, রাশিয়া অনেকটাই ‘কাগুজে বাঘ’, আর ইউক্রেনের জেতার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি। অন্তত গ্রহণযোগ্য এক সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো শক্তি ইউক্রেনের আছে।

তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপ যদি আরও দৃঢ়ভাবে না এগোয়, তাহলে এই যুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাবিকাঠি রয়ে যাবে হোয়াইট হাউসের হাতেই।

স্টেফান উলফ: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম

তেতিয়ান মালিয়ারেনকো: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ইউরোপীয় নিরাপত্তার জ্যাঁ মোনে অধ্যাপক, ওডেসা ল’ একাডেমি, ইউক্রেন

(লেখাটি দ্য কনভারসেশন ডট কমের সৌজন্যে প্রকাশিত হলো)

বিষয়: রাশিয়াআমেরিকাডোনাল্ড ট্রাম্পইউক্রেনভ্লাদিমির পুতিনইউক্রেন যুদ্ধ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন