Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

সমাজ ও রাষ্ট্রের লজ্জা আদতেই কি আছে?

সুব্রত শুভ্র

সুব্রত শুভ্র

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৫: ৫৩
সমাজ ও রাষ্ট্রের লজ্জা আদতেই কি আছে?

মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো একবার পুরোপুরি ভেঙে পড়লে শুধু আইন দিয়ে তা আর মেরামত করা যায় না। আসলে এই দেশের, সমাজের ভেতরে অসুখ হয়েছে। বহুকাল ধরেই, এখানে মৃত্যু শুধু দেহের শেষ নয়; মৃত্যু মানে ভয় নিয়ে বড় হওয়া, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে হাঁটা, নীরবে সহ্য করা, এবং প্রতিদিন একটু একটু করে মানবিক মর্যাদা হারিয়ে ফেলা। কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে আরও নির্মম। কারণ, তাদের জীবন শুরু হওয়ার আগেই সমাজ ও নরপশুরা তাদের ওপর নিষ্ঠুরতার ছায়া ফেলে।

Advertisement

কন্যাশিশুর চোখে যদি খেলনার আগে আতঙ্ক এসে বসে, যদি একটি মেয়েশিশু নিজের ঘরের ভেতরেও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে না পায়, তবে বুঝতে হবে, সেই সমাজ তার মানবিকতা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। তাদের শৈশব হয়তো শুরুই হয় না। কষ্ট, ভয় আর অসম্মানের ভার বহন করতে করতেই তারা বড় হতে থাকে। যে মেয়ে-শিশু ঘরের ভেতরেও নিরাপদ নয়, তার কাছে পৃথিবী আর আশ্রয় থাকে না; হয়ে ওঠে এক ধীর, নিঃশব্দ ধ্বংসের ক্ষেত্র।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রায়ই এমনভাবে ঘটে, যেখানে অপরাধ শুধু শরীরকে আঘাত করে না; মন, আত্মসম্মান, ভবিষ্যৎ—সবকিছুকেই ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যার খবর যখন বারবার আসে, তখন সমাজের বিবেকেও এক ধরনের অবশতা জন্মায়। আমরা প্রতিটি ঘটনার পর সাময়িক ক্ষোভে ফেটে পড়ি। কিন্তু সেই ক্ষোভকে যদি ন্যায়বোধ, বিচার, নিরাপত্তা আর সংস্কারের দিকে নিয়ে যাওয়া না যায়, তবে প্রতিটি নতুন খবর আগের ক্ষতেরই পুনরাবৃত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

রামিসা আমার মেয়ে না, তাই কি কষ্ট আমার না?Ramisa

এ দেশে প্রতিদিন ‘বারবার মরতে হয়’ আমাদেরকে, এখানে মৃত্যু একবার ঘটে না; একই মানুষ প্রতিবার খবরের শিরোনামে, প্রতিবার সামাজিক অবজ্ঞায়, প্রতিবার আইনের দুর্বলতায়, প্রতিবার নীরবতায় আবারও নিহত হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মানুষে-সমাজে-রাষ্ট্রে এমন এক নৈতিক স্খলনের পরিবেশ, যেখানে জীবনের বদলে মৃত্যুর আশঙ্কাই বেশি বাস্তব। এই দেশে শিশু ও নারী যেন বেঁচে থাকে শর্তসাপেক্ষে। রাস্তায়, ঘরে, স্কুলে, কর্মক্ষেত্রে, এমনকি নিজেদের শরীরের মধ্যেও তারা পূর্ণ অধিকার নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ দেশের সমাজে পরিবার, রাষ্ট্র, আর সামাজিক নীতির যে ফাঁকফোকর রয়েছে, সেখানেই এই সহিংসতার শেকড়।

শিশুরা নিরাপদ না থাকে, নারীরা সম্মান নিয়ে বাঁচতে না পারে যেখানে, সেখানে উন্নয়নের সব কথা কাগুজেই। যেখানে জীবনকে রক্ষা করার কথা থাকলেও বারবার জীবনই বিপন্ন হয়, আর সেই বিপন্নতার সবচেয়ে বড় শিকার হয় তারা, যাদের কণ্ঠ সবচেয়ে কম শোনা যায়।

‘জুতা পরার সময়ও পায়নি রামিসা, পাষণ্ডটা টান দিয়া নিয়া গেছে’ramisha

নারী ও শিশুদের কাছে জীবন যেন শর্তসাপেক্ষ এক অনুমতি, অধিকার নয়। তারা হাঁটে ভয়ে, বাঁচে সতর্কতায়, কথা বলে সঙ্কোচে, আর দিন কাটায় সম্ভাব্য বিপদের ছায়া মাথায় নিয়ে। যাদের নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি, তারাই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। এই অনিরাপত্তা শুধু দেহে ক্ষত তৈরি করে না, সমাজের বিবেককেও ক্ষতবিক্ষত করে।

এই দেশে এখন মানুষ সহিংসতার খবর শুনে শুধু কেঁপে ওঠে না, অভ্যস্ত হয়ে যায়। আর সেই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর মৃত্যু, কারণ তখন অন্যের কষ্ট আর কারও হৃদয়ে নাড়া দেয় না। যাদের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাওয়ার কথা, তারাই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। অবাধ্য, ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কেউ আমরা প্রচলিত সভ্যতার মুখোশ ছিঁড়ে ফেলতে চাই আর্তনাদে, সমাজ ও রাষ্ট্রকে লজ্জা দিতে চায়, জাগাতে। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের লজ্জা আদতেই কি আছে?

কারণ যে সমাজ ও রাষ্ট্র তার শিশুদের, বিশেষ করে তার কন্যাশিশু ও নারীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে সমাজ ও রাষ্ট্র মানবিকতার দাবি করার কোনো অধিকার রাখে না। আমাদের হৃদয় এখনও কাঁপে। এখনও জ্বলে। হয়তো সেই আগুনই একদিন এই অন্ধকারকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।

লেখক: মাল্টিডিসিপ্লিনারি আর্টিস্ট, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক

বিষয়: দেশমানুষসমাজমৃত্যুরাষ্ট্র
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন