Advertisement Banner

ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে ডজনখানেক দুর্নীতির অভিযোগ

ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে ডজনখানেক দুর্নীতির অভিযোগ
ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। ছবি: বাসস

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ডজনখানেক দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ক্ষমতার অপব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দুদক।

তবে মোহাম্মদ এজাজ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে এজাজের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয়। এ পর্যন্ত এজাজকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পর্যালোচনার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। অনুসন্ধান শেষে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হতে পারে।

এরই মধ্যে এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এজাজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-গাবতলী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ই-রিকশা প্রকল্পে আর্থিক অসঙ্গতি, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের দখলভার গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস পরিচালনায় অনিয়ম এবং ফুটপাতে দোকান বরাদ্দে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। এছাড়া ডিএনসিসির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বেশিরভাগ অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। অনুসন্ধান শেষ হলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার এক বছরের জন্য মোহাম্মদ এজাজকে ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। বিশেষ করে গাবতলী গরুর হাটের ইজারা নিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন।

তাকে নিয়োগ দিতে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেওয়া ডিও লেটার নিয়েও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রকল্প ও বরাদ্দ কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া প্রশাসক পদে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ উগ্রপন্থি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পুরোনো অভিযোগও নতুন করে সামনে আসে। যদিও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তখন তার পক্ষে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।

সেই বিবৃতিতে বলা হয়, মোহাম্মদ এজাজ একজন পরিবেশবাদী, লেখক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জলাধার দখল ও পানির বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্যতা, পানির অধিকার এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবিকার পক্ষে তার অবস্থান প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে আঘাত হানায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

তবে দুদক বলছে, তারা রাজনৈতিক বিতর্ক নয়-সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ নিয়েই কাজ করছে।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ চরচাকে বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

তার দাবি, চলমান তদন্তে প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে। দুদক যে প্রমাণের কথা বলছে, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং অভিযোগগুলো বিষয়ে তিনিও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দুদকের কাছে দিয়েছেন। সেগুলো খণ্ডনের কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোহাম্মদ এজাজ আরও বলেন, “দুদক যেসব অভিযোগ সামনে এনেছে, তার বেশির ভাগই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তদন্তেই সত্য প্রমাণিত হবে।”

সম্পর্কিত