Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

ডিসি সারোয়ার আলমের প্রত্যাহার: মাজারের দানবাক্স বিতর্ক নাকি রুটিন বদলি?

দীপ্ত বৈষ্ণব

দীপ্ত বৈষ্ণব

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ২১: ৫৯
ডিসি সারোয়ার আলমের প্রত্যাহার: মাজারের দানবাক্স বিতর্ক নাকি রুটিন বদলি?

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমের আকস্মিক প্রত্যাহার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নজরানার অর্থ স্বচ্ছতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরপরই এই বদলির আদেশ আসায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Advertisement

জনগণের একটি বড় অংশের ধারণা, মাজারকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত স্বার্থ ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপই ডিসি সারোয়ার আলম প্রত্যাহারের মূল কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি—এটি একটি সাধারণ ও রুটিনমাফিক বদলি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের কোনো ইস্যুর সম্পর্ক নেই।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি
ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গত রোববার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ডিসি সারোয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ তাকে বদলি করা হয়েছে, এ নিয়ে সারোয়ার আলম এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। প্রজ্ঞাপনে তার স্থলাভিষিক্ত নতুন ডিসির নাম উল্লেখ না থাকায় ‘মাজারের দানবাক্স ইস্যু’র গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

নতুন জেলা প্রশাসক আসার আগপর্যন্ত বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিংকি সাহা চরচাকে বলেন, ‘‘আমি নতুন জেলা প্রশাসক আসার আগ পর্যন্ত রুটিনওয়ার্ক পরিচালনা করব। সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা নতুন জেলা প্রশাসক পাব।”

দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সদ্য বিদায়ী ডিসি কোনো বিশেষ অসমাপ্ত কাজের (যেমন মাজার ইস্যু) ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘‘এগুলো আমাদের অফিশিয়াল প্রাইভেসি।” তবে শাহজালাল মাজারের দানবাক্স নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আশা করি স্বচ্ছতার উদ্দেশ্যে শুরু করে যাওয়া সারোয়ার আলম স্যারের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা সময় হলেই জানতে পারবেন।”

নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত সোমবার মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের উদ্যোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

মাত্র ৪ দিনের সংগ্রহে মাজারের দানবাক্সে পাওয়া যায় নগদ সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, কিছু স্বর্ণালংকার এবং বিদেশি মুদ্রা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকাশ্যে আসার পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এত দিন এই টাকা কোথায় যেত এবং মাজারের প্রকৃত আয় কত?

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মাজারের খাদেম ও ব্যবস্থাপনা কমিটির একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে একটি বিশেষ মহলের ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শাহজালাল মাজারের লঙ্গরখানার খেদমতের দায়িত্বে থাকা সৌরভ আহমদ সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে চরচাকে বলেন, ‘‘আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন এবং নতুন দানবাক্স বসায়। ১৫ দিনের কথা বলে বাক্স বসালেও মাত্র চার দিনের মাথায় হুটহাট করে কাদের নিয়ে এসে টাকা গণনা করা হলো এবং সেই টাকা কোথায় রাখা হলো, তার কিছুই মাজারের খাদেম বা দায়িত্বশীলদের জানানো হয়নি।”

সৌরভ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ডিসি সাহেব চার দিনের দানের টাকার হিসাব পাবলিককে দেখিয়ে গেলেন, কিন্তু মাজারের দৈনিক ব্যবস্থাপনা খরচ, লঙ্গরখানার খরচ এবং শত শত বছর ধরে আসা হাজার হাজার ভক্ত-দর্শনার্থীর খেদমতের পেছনে যে বিপুল ব্যয় হয়, তা কেন হিসাব করলেন না? এ ছাড়া দর্শনার্থীরা তো মাজারের মসজিদ ও এতিমখানার দানবাক্সেও দান করেন; মাজারের স্বচ্ছতা দেখানোর পাশাপাশি এতিমখানা ও মসজিদের দানবাক্সের টাকা কেন প্রকাশ্যে আনা হলো না, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।”

ছবি: বাসস
ছবি: বাসস

অর্থ সংরক্ষণের জন্য মাজারের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও মাজার কর্তৃপক্ষকে তাতে সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, ‘‘আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি মাজারের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তবে এতে আমাদের কাউকে রাখা হয়নি, এমনকি জানানোও হয়নি।”

মাজারের ঐতিহ্য ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হজরত শাহজালাল (রহ.) আজীবন অবিবাহিত ছিলেন। তবে তার জীবিতাবস্থায় ভাগনের সংসারের খরচের জন্য মাজারের আয়ের একটি অংশ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তার ভাগনের উত্তরসূরী প্রায় ৩০০টি পরিবার সিলেটে বসবাস করছে, যারা স্থানীয়ভাবে ‘সরওকুম’, ‘মুফতি’ ও ‘সৈয়দ পরিবার’ নামে পরিচিত।

এই ৩০০ পরিবার থেকে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে একেকজন মাজারের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘বাড়ি প্রথা’ নামে পরিচিত। যিনি যেদিন দায়িত্বে থাকেন, তিনি মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন এবং লঙ্গরখানার খরচ মিটিয়ে অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত টাকা ‘হাদিয়া’ হিসেবে নিয়ে যান।

খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না চরচাকে বলেন, ‘‘আমরা কখনোই মাজারে দান করার জন্য কোনো প্রচার চালাই না। ওরসের জন্যও কোনো চাঁদা বা প্রচার করা হয় না। মানুষ নিজেদের ভক্তি ও ভালোবাসা থেকেই এখানে আসেন এবং দান করেন।”

মাজারে প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট কত টাকা আসে, তার নিখুঁত কোনো হিসাব নেই। তবে মাজার ভক্তদের সংগঠন ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী জানান, প্রতিদিনের আয় সমান নয়। সাধারণ দিনগুলোতে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উঠলেও, বৃহস্পতিবার বা বিশেষ দিনগুলোতে ভক্তদের সমাগম বাড়লে দৈনিক আয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।

বিষয়: প্রত্যাহারসিলেটসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটাকাডিসি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সাংবাদিক নিধি রাজদানকে বিয়ে করেছেন। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্ট দিয়ে নিজেদের বিয়ের খবর জানিয়েছেন এই দম্পতি। ৫৬ বছর বয়সী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দুজনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখে

  • ভাইরাল হওয়ার নেশায় ‘উড়ছে’ বাস, কর্তৃপক্ষ করছে কী?

    ভাইরাল হওয়ার নেশায় ‘উড়ছে’ বাস, কর্তৃপক্ষ করছে কী?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকবছর ধরে নতুন কিছু ভাইরাল গ্রুপ আর পেজের দেখা মিলছে। ‘বাস লাভার’, ‘ট্যুর বাস লাভার’, ‘বাস স্পটার’ নামের অনেক গ্রুপ আর পেজ দেখা যায় ফেসবুকে। এই গ্রুপ বা পেজগুলোয় বাস নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এসব গ্রুপের সদস্য বা পেজের অ্যাডমিনরা কিছুদিন পরপরই বাস ভাড়া করে দূরপ

  • সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

    সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

    “আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ফেলে। তখনই আমার ভিতরে আত্মা নাই। এরপর র‍্যাবের (এসআরবি) অফিসে নিয়ে তাদের শেখানো স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেয় এবং কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মারে। যদি তাদের মতো করে স্বীকারোক্তি না দিই, তাহলে জামিন পাব না–এমনটিও বলেন র‍্যাবের (এসআরবি) কর্মকর্তারা”

  • খুলনায় থামছেই না খুনখারাবি, ‘অসহায় পুলিশ’

    খুলনায় থামছেই না খুনখারাবি, ‘অসহায় পুলিশ’

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যেন অসহায়। চেষ্টা করেও খুলনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না তারা। পুলিশের অভিযোগ, ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে চাইছে না।