Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

ছাইয়ের মাঝে শেষ সম্বলের খোঁজে

আরমান ভূঁইয়া

আরমান ভূঁইয়া

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ৩৪
ছাইয়ের মাঝে শেষ সম্বলের খোঁজে

রাতের আকাশ যেন কড়াইল বস্তির ওপর কালো চাদর টেনে দিয়েছিল। ধোঁয়ার ঘন মেঘে ঢেকে যায় চারপাশ, বাতাসে ভেসে আসে পোড়া প্লাস্টিক, কাঠ আর চালের তীব্র গন্ধ। মানুষের শেষ আশ্রয়গুলো মুহূর্তেই পরিণত হয় ছাইয়ের স্তূপে।

Advertisement

যে বস্তির প্রতিটি ঘর ছিল কোনো না কোনো পরিবারের স্বপ্নের ঠিকানা, সেই ঘরগুলো এক সন্ধ্যায় বিলীন হয়ে গেছে আগুনের গ্রাসে। প্রাণে বেঁচে গেলেও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ–নিস্তব্ধতার মাঝে দাঁড়িয়ে শুধু একটি বাক্যই শোনা যাচ্ছে, ‘পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই।‘

মঙ্গলবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরে ঘরে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের টানা চেষ্টায় রাত সাড়ে দশটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার আগে পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, পুড়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার ঘর। তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। রাতারাতি চিরচেনা এলাকা পরিণত হয়েছে ছাইয়ের শহরে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বস্তির দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত একেবারে ধ্বংসস্তূপ। বৌ বাজারের একাংশ, তালতলা রোড, কবরস্থান গলি ও কুমিল্লা পট্টির বড় অংশই পুড়ে গেছে। অলি-গলিতে হাঁটলে পায়ের নিচে খচখচে ছাইয়ের শব্দ, বাতাসে পোড়া গন্ধ আর মানুষের আহাজারি। কোথাও কোনো বাড়ির চিহ্ন নেই, কোথাও আধভাঙা টিন, পোড়া বাঁশ আর প্লাস্টিকের গলানো দলা পড়ে আছে। আগুন থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরলেও কেউ ফিরতে পারেনি নিজের শেষ সম্বল নিয়ে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ছাইয়ের মাঝে শেষ সম্বল খুঁজছেন কয়েকজন। ছবি: চরচা
ছাইয়ের মাঝে শেষ সম্বল খুঁজছেন কয়েকজন। ছবি: চরচা

ধ্বংসস্তূপের এক কোণে দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বসে আছেন আইরিন আক্তার। চোখে শূন্যতার ছাপ। বনানীর এক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন তিনি। আগুনের খবর পেয়ে দৌঁড়ে এসেছিলেন। কিন্তু এসে দেখতে পান, ঘর নেই, জিনিসপত্র নেই, টাকার থলিটাও নেই। কাঁপা গলায় তিনি বলেন, ‘’চোখের সামনে আমার ঘরটা পুড়লো। সন্তানদের খোঁজে ছোটাছুটি করছিলাম। পরে দেখি বাজারের এক পাশে ওরা বাবার হাত ধরে বসে আছে। ঘরের টাকা, কাগজ, কাপড় সব শেষ। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই।‘’

ভ্যানচালক রাজিব হোসেনও স্তূপের ভেতর কাঁদতে কাঁদতে কিছু খোঁজার চেষ্টা করছেন। স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে কবরস্থান গলির এক ঘরে থাকতেন। জানালেন, ট্রাংকের ভেতরে রক্ষিত ২০ হাজার টাকাই ছিল তার শেষ সঞ্চয়। “ভেবেছিলাম আগুন থেমে যাবে। কিন্তু কয়েক মিনিটেই চারদিক অন্ধকার। নিজের চোখের সামনে ঘর পুড়তে দেখলাম। এখন ওই টাকার খোঁজে এসেছি, পেলে বাচ্চাদের জন্য কিছু করতে পারবো।”

এলাকার পুরোনো বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘’আমি ফিরতে ফিরতে দেখি পাশের ব্লকগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। দৌঁড়ে ঘরের দিকে গেলাম, কিন্তু ঢুকতেই পারিনি। সব শেষ। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে আছি। কোথায় যাব জানি না।‘’

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বস্তির ঘিঞ্জি কাঠামো, দাহ্য উপকরণ আর পানির সংকট–সব মিলিয়ে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যানজট আর সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘’প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আনুমানিক ১,৫০০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে।‘’ তিনি জানান, আগুন লাগার পর ৩৫ মিনিটের মধ্যেই তিনটি স্টেশনের ইউনিট পৌঁছালেও প্রবেশে বাধা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

আগুনে পুড়ে ছাই কড়াইলের বস্তি। ছবি: চরচা
আগুনে পুড়ে ছাই কড়াইলের বস্তি। ছবি: চরচা

এখন কড়াইলের বাস্তবতা শুধুই অনিশ্চয়তা। যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল, আজ তারা খোলা আকাশের নিচে। শিশুরা আতঙ্কে কাঁপছে, বৃদ্ধরা অসহায়ের মতো বসে আছেন। কোথাও সামান্য খাবার বিতরণ হচ্ছে, কোথাও দেওয়া হচ্ছে পানির বোতল। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ঘটনাস্থলে এসে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুপুরে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে।

এখন কড়াইল বস্তির আগুনেপোড়া এলাকায় শুধু ছাই, পোড়া বাঁশ, ভেঙে যাওয়া টিন আর মানুষের দীর্ঘশ্বাস। যাদের সব পুড়ে গেছে, তাদের সবার মুখে একই প্রশ্ন— ‘এখন আমরা কোথায় যাব?’

তবু ধ্বংসস্তূপের ভেতর কোথাও কোথাও দেখা যায় আশা জাগানোর দৃশ্য–পুড়ে যাওয়া বই তুলে কেউ ঝেড়ে নিচ্ছেন, কেউবা ধ্বংসস্তূপের মাঝে নিজের শেষ সম্বলটুকু খোজার চেষ্টা করছেন।

বিষয়: কড়াইল বস্তিরাজধানীআগুনফায়ার সার্ভিস
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সাংবাদিক নিধি রাজদানকে বিয়ে করেছেন। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্ট দিয়ে নিজেদের বিয়ের খবর জানিয়েছেন এই দম্পতি। ৫৬ বছর বয়সী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দুজনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখে

  • ভাইরাল হওয়ার নেশায় ‘উড়ছে’ বাস, কর্তৃপক্ষ করছে কী?

    ভাইরাল হওয়ার নেশায় ‘উড়ছে’ বাস, কর্তৃপক্ষ করছে কী?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকবছর ধরে নতুন কিছু ভাইরাল গ্রুপ আর পেজের দেখা মিলছে। ‘বাস লাভার’, ‘ট্যুর বাস লাভার’, ‘বাস স্পটার’ নামের অনেক গ্রুপ আর পেজ দেখা যায় ফেসবুকে। এই গ্রুপ বা পেজগুলোয় বাস নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এসব গ্রুপের সদস্য বা পেজের অ্যাডমিনরা কিছুদিন পরপরই বাস ভাড়া করে দূরপ

  • সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

    সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

    “আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ফেলে। তখনই আমার ভিতরে আত্মা নাই। এরপর র‍্যাবের (এসআরবি) অফিসে নিয়ে তাদের শেখানো স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেয় এবং কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মারে। যদি তাদের মতো করে স্বীকারোক্তি না দিই, তাহলে জামিন পাব না–এমনটিও বলেন র‍্যাবের (এসআরবি) কর্মকর্তারা”

  • খুলনায় থামছেই না খুনখারাবি, ‘অসহায় পুলিশ’

    খুলনায় থামছেই না খুনখারাবি, ‘অসহায় পুলিশ’

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যেন অসহায়। চেষ্টা করেও খুলনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না তারা। পুলিশের অভিযোগ, ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে চাইছে না।