Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> মতামত

প্যারিসে কুলাউড়া: স্মৃতি যেখানে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে

শাহাবুদ্দিন শুভ

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ০৪
প্যারিসে কুলাউড়া: স্মৃতি যেখানে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে

শিক্ষা আমাকে বরাবরই টানে। কোনো একটি কলেজ, কোনো একটি বিদ্যালয় কিংবা সাবেক শিক্ষার্থীদের কোনো মিলনমেলা—এসব কেবল অনুষ্ঠান নয়, এগুলো আসলে স্মৃতির পুনর্জন্ম। তাই যখন প্যারিসে কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার দাওয়াত পেলাম, তখনই বুঝেছিলাম, এটা আমার কলেজ না হলেও, এটা হবে আমার অনুভূতির জায়গা।

Advertisement

আমি কুলাউড়া সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলাম না। তবু সেই মিলনমেলার হলে বসে, তাদের চোখের কোণে জমে থাকা আবেগ, কণ্ঠের কাঁপন, আর স্মৃতির ভেজা হাসি দেখে মনে হচ্ছিল—আমি যেন নিজেরই কোনো হারিয়ে যাওয়া ক্যাম্পাসে ফিরে গেছি। তারা যখন সহপাঠী, প্রিয় শিক্ষক কিংবা উড়ন্ত ছাত্রজীবনের গল্প বলছিল, তখন আমার নিজের কলেজ, আমার নিজের বন্ধু, আমার নিজের দিনগুলোও ভেতরে ভেতরে জেগে উঠছিল।

Kulaura 1

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্যারিসের মতো এক বিশ্বনগরীতে বসে কুলাউড়ার একটি কলেজ যেন হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছিল—উচ্চারণে, হাসিতে, গল্পে, নীরবতায়। কেউ বলছিল কলেজের মাঠের কথা, কেউ কোনো শিক্ষকের শাসনের স্মৃতি, কেউ আবার হারিয়ে যাওয়া কোনো বন্ধুর নাম নিয়ে হঠাৎ থমকে যাচ্ছিল। আমি ছিলাম একজন দর্শক, কিন্তু সেই আবেগের ঢেউ আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল তাদের অন্তরের ভেতরে।

এই মিলনমেলা আমাকে নতুন করে বুঝিয়ে দিল—শিক্ষা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষা এক ধরনের আত্মীয়তা। যে কলেজই হোক, যে ব্যাচই হোক—যখন কিছু মানুষ তাদের ছাত্রজীবনের স্মৃতি নিয়ে একত্র হয়, তখন সেখানে এক ধরনের পবিত্রতা জন্ম নেয়। সেই পবিত্রতাই আমাকে গভীরভাবে আন্দোলিত করেছিল।

Kulaura 3

কুলাউড়ার সঙ্গে আমার নিজেরও অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অনার্স জীবনে আমার বহু সহপাঠী ছিল কুলাউড়ার, যাদের অনেকেই আজ দেশের বাইরে—তবু যোগাযোগ কখনো কমেনি। দেশে থাকাকালে পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়ির পাশের থানায় যাওয়ার সময় কলেজশিক্ষক বন্ধু এমদাদ প্রায় প্রতিবারই রেলস্টেশনে এসে আমাদের রিসিভ করত। সিলেটপিডিয়ার জন্য সিলেটের চা-বাগানের ইতিহাস লিখতে গিয়েও বারবার ফিরে এসেছে কুলাউড়ার নাম। সিলেটের নদী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মৌলভীবাজার জেলার নদীর সংখ্যা নিয়ে লেখায়ও কুলাউড়ার কথা উঠে এসেছে।

ঢাকায় বসবাসরত কুলাউড়ার অনেকের সঙ্গে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কুলাউড়ার মানুষ সংগঠিত—এটা বহুবার টের পেয়েছি। ঢাকায় সিলেট বিভাগের পুরোনো উপজেলা সমিতিগুলোর মধ্যে কুলাউড়ার সমিতি অন্যতম প্রাচীন, আর তাদের বহু অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছে। তাই প্যারিসে কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

লেখক
লেখক

অনুষ্ঠানে নিবন্ধন করেছিলেন প্রায় ৬০ জন সাবেক ছাত্রছাত্রী, আর পরিবার-পরিজনসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিরাও এসেছিলেন অনেকেই। পুরো হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ—প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও ছয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। আলোচনা ও স্মৃতিচারণ শেষে নৃত্য পরিবেশন করেন জি এম শরীফুল ইসলাম ও তার দল, আর সংগীত পরিবেশন করেন ‘জলের গান’ খ্যাত রাহুল আনন্দ—যার বাড়িও কুলাউড়া উপজেলায়।

আমি অন্য এক কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে যেন নিজের জীবনের সবচেয়ে আপন অধ্যায়গুলো ছুঁয়ে এসেছি—এই ছিল প্যারিসের সেই সন্ধ্যার সবচেয়ে সুন্দর বিস্ময়। লুলু ভাই ও বাবু ভাইদের টিমকে ধন্যবাদ এ ধরনের একটি আয়োজন করার জন্য।

Kulaura 4

কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ এক ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬৯ সালের ১ জুন যাত্রা শুরু করা এই কলেজ আজও শিক্ষা ছড়িয়ে যাচ্ছে ভবন, মাঠ, লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার, মসজিদ, শহীদ মিনার আর সবুজ বৃক্ষরাজির মাঝে—প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করে।

তবে আরও একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়—ফ্রান্সে কোনো উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীদের এত বড়, দল-মত-পথ নির্বিশেষে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এমন আয়োজন সত্যিই বিরল। এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

Kulaura 5

দেশের অন্য জেলা ও উপজেলার স্কুল-কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরাও যদি এভাবে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সংগঠিত হতে পারেন, তবে শুধু স্মৃতি আর আবেগ নয়—সেখান থেকে জন্ম নেবে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এক শক্তিশালী ভূমিকা।

প্যারিসের সেই সন্ধ্যায় আমি বুঝেছিলাম—ক্যাম্পাস বদলায়, দেশ বদলায়, শহর বদলায়; কিন্তু ছাত্রজীবনের টান আর স্মৃতির আলো কখনো নিভে যায় না।

লেখক ফ্রান্সপ্রবাসী সাংবাদিক ও গবেষক। ইমেইল: [email protected]

বিষয়: কুলাউড়ামিলনমেলামুক্ত মতমৌলভীবাজারমুক্ত আলোচনা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।