
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের পর শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ বিনিময়ের লক্ষ্যে বিজয়া পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ২৪টি সংগঠন সম্মিলিতভাবে এই পুনর্মিলনীকে ‘বিজয়া সম্মিলন’ নামে অভিহিত করছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) এই চতুর্থ আয়োজনের আসর বসেছিল সিডনির শহরতলী ক্যাম্পসির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে। সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনোরিটিস ইন বাংলাদেশের (এএফইআরএমবি) উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
দেবী দুর্গার উপাসনার মূল আহ্বানকে পুনরুচ্চারিত করে, বরাবরের মতো এই বিজয়া সম্মিলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘অশুভের বিনাশ হোক, শুচি হোক বিশ্বলোক’। সকল আসুরিক, দানবিক, অমানবিক শক্তির বিনাশ ঘটে বিশ্বে শান্তি, মঙ্গল ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা হোক, এটাই প্রার্থনা।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাদেশিক ও ফেডারেল পর্যায়ের কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রী, কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য এবং স্পন্সর ও মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।

বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এই আনন্দঘন মহাসম্মিলন। সমগ্র অস্ট্রেলিয়া, বিশেষত নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সদস্যরা সপরিবারে যোগ দেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই আনন্দধারায় যুক্ত হয়ে প্রীত হন। এই মধুর সম্মিলনের উদ্দেশ্য ও আহবানের সঙ্গে তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
যেসব সংগঠনের প্রতিনিধি বা সদস্যরা সশরীরে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা যথারীতি বিজয়ার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে উপস্থিতি আংশিক ভার্চ্যুয়াল হলেও অংশগ্রহণে পূর্ণতা পেয়েছে।
শুভ্রা সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। কান্ট্রি অ্যাকনলেজমেন্ট, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত গাওয়া এবং পরমেশ ভট্টাচার্য ও অপু সাহার সমন্বয়ে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ঢাক ও শঙ্খের মূখরিত বাজনার সঙ্গে উলুধ্বনিতে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর নতুন প্রজন্মের শিশুরা পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করে। এতে অংশগ্রহণ করে ‘রাধা কৃষ্ণ গৌড়ীয় মন্দির’-এর শিশুরা।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংস ঘটনাবলির ওপর আকাশ দের নির্মিত একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত সবাইকে স্তম্ভিত করে। আনন্দের অনুষ্ঠানে বিষাদের ছায়া নেমে এলেও স্বদেশের বাস্তবতা দেখে তারা এই ব্যাপারে কিছু ভূমিকা রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিত শক্তিতে অশুভ শক্তিকে রুখে দেবার বার্তাও ছিল এই ভিডিওতে, যা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে।

এরপর উপস্থিত সকল সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিনিধিরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঐক্য অটুট রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এএফইআরএমবির সভাপতি সুরজিৎ রায় উদাত্ত আহ্বান জানান সম্মিলিত শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার লক্ষ্যে। তার দৃঢ়কন্ঠের এই প্রত্যয়ী আহ্বান সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে।
এই আয়োজনের স্পন্সরদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দৃষ্টিনন্দন ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়, যা ছিল একটি নতুন সংযোজন।
অন্যদের মধ্যে ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য ও বার্টনের এমপি অ্যাস অ্যাম্বিহাইপার, হিউজের ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিফ, হিন্দু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল সেক্রেটারি শোভা দেশিকান এবং চট্টগ্রাম হিল ট্রাক্টস ইন্ডিজিনিয়াস জুম্মা অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য কবিতা চাকমা অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং বক্তব্য দেন। তারা তাদের বক্তব্যে বিজয়া পুনর্মিলনী ও দীপাবলির মতো অনুষ্ঠান আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই আয়োজন অস্ট্রেলিয়ার বহুজাতিক সংস্কৃতির সমাজের সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ, বৈচিত্রময় ও উপভোগ্য করবে বলে মত প্রকাশ করেন।

আঁধার মুছে আলো, মূঢ়তা ছেড়ে জ্ঞান এবং অশুভ হেনে শুভশক্তির আহ্বান ও প্রতিষ্ঠায় এএফএআরএমবির এই মহৎ উদ্যোগের সাথে তারা সংহতি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অতিথিরা আহ্বান জানান।
অতিথিরা আরও বলেন, এই সমন্বিত বর্ণিল ও প্রাণোস্ফূরণময় উৎসব পালন এই বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে নিশ্চিতভাবেই প্রাণ ও প্রেরণা সঞ্চার করবে। তারা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রামের এই প্রত্যয়ে সবাইকে যূথবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডেভিড মনক্রিফ এমপির হাতে এএফএআরএমবির একটি প্রকাশনা ‘গ্লোবাল লেন্স’ এর প্রথম সংখ্যা তুলে দিয়ে এই প্রকাশনার যাত্রা সূচনা করা হয়। এই প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত এএফএআরএমবির সম্পাদকমণ্ডলিও এসময় যুক্ত হন। এই প্রকাশনার মূল উদ্দেশ্য হলো, মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত অবিচার, অত্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা। এতে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণালব্ধ লেখা ও দিকনির্দেশনামূলক বার্তা সন্নিবেশিত হয়েছে।

এরপর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে হিমেল ও শাওলি ভৌমিকের সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপিত হয় সদস্য সংগঠনের প্রযোজনায়। এএফএআরএমবির বিভিন্ন সংগঠন আলাদাভাবে এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। যার মাধ্যমে অশুভের বিনাশ ও মঙ্গলের আবাহন মূর্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ছিল, স্তোত্রপাঠ, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচ।
অনুষ্ঠানের শেষে মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা। শিল্পী শ্রোতাদের সঙ্গে গানে-গানে উৎফুল্ল প্রাণে চমৎকার এক সেতুবন্ধন রচনা করেন। এত প্রাণবন্ত পরিবেশনায়, এত হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গানে উপস্থিত আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই পুরোটা সময় আনন্দে, নৃত্যে, করতালিতে উপভোগ করেন। সিঁথি সাহার গান ভরিয়েছে সবার মনপ্রাণ।
অনুষ্ঠান শেষে এএফএআরএমবির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারপারসন ড. সমীর সরকার সকল সংগঠন, শিল্পী ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিজয়া সম্মিলন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী বা বাঙালি কমিউনিটির উৎসব নয়, এই প্রদেশের একটি বর্ণিল ও প্রাণময় উৎসব ছিল এই আয়োজন। এমনটি বলেছেন উপস্থিত অনেক অতিথি। সকল বিচারে এই আয়োজন ছিল গুরুত্বপূর্ণ, ঋদ্ধ ও স্মরণীয়। এই বিজয়া সম্মিলন প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিল এক মহাসম্মিলন।
সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর
মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’
‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’
চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।