Advertisement Banner

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ক্লান্ত একজন রোহিঙ্গা নারী। ছবি: রয়টার্স

রাখাইনের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। দেশটি গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজে (আইসিজে) গাম্বিয়া যে অভিযোগ এনেছে, তার পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

রয়টার্সকে এক খবরে বলা হয়, মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং আইসিজের বিচারকদের বলেন, তার দেশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।

গত সোমবার শুরু হওয়া শুনানিতে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জাল্লো বলেন, মিয়ানমার ‘গণহত্যা নীতির’ মাধ্যমে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং ৭ লাখেরও বেশি মানুষ প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই প্রথম গণহত্যার মামলা, যা আইসিজেতে পূর্ণাঙ্গভাবে শুনানি হয়েছে। এই মামলার রায় কেবল মিয়ানমারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গাজা নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে মিয়ানমার ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ধারাবাহিকভাবে বলছে, তাদের অভিযান ছিল জঙ্গি বা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার হ্লাইং আইসিজেতে বলেন, রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ নিয়ে মিয়ানমার চুপ থাকতে পারে না। এই হামলাগুলোর কারণেই ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালিত হয়, যার অর্থ হলো বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাস দমন অভিযান।

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে। মামলায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালতে গাম্বিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী ফিলিপ স্যান্ডস বলেন, “আদালত যখন সব প্রমাণ এক সাথে বিবেচনা করবে, তখন বোঝা যাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নানা কর্মকাণ্ডের ভেতরে গণহত্যার উদ্দেশ্যই প্রাধান্য পেয়েছে।”

মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং বলেন, তার সরকার বাংলাদেশে ক্যাম্পের থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোভিড-১৯ মহামারি, ঘূর্ণিঝড় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে বলেও বলেন তিনি।

এই শুনানি তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এবং আগামী বুধবার থেকে আদালত ‘ক্লোজড সেশনে’ নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে সরাসরি রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হবে।

সম্পর্কিত