সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় জামিনে বের হয়ে আশুলিয়ায় এবার তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন মনিরুজ্জামান হৃদয়।
তিনি ২০২২ সালে আশুলিয়ায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ২০২৩ সালে ৭ মাস জেল খাটেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এরও আগে ২০১৪ সালে ফরিদপুরে একটি হত্যা মামলায় জেলে খেটেছিলেন হৃদয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সাব-ইন্সপেক্টর এবং এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনিসুর ইসলাম বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, মনিরুজ্জামান হৃদয়ের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তিনি ২০১৪ সালে সেখানকার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। ওই মামলায় জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে সে আশুলিয়ায় পালিয়ে এসে সবজি ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আশুলিয়ায় এক নারী দোকানদারকে হৃদয়সহ তিনজন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা প্রকাশ করার হুমকিতে তাকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ২০২৩ সালে চার্জশিট হওয়ার পর সাত মাস জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে আবারও জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপরই পরকীয়ার জেরে ঘটে সাম্প্রতিক এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা।
গত শুক্রবার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে নাজমা আক্তার, আলমগীর কবির এবং তাদের পাঁচ মাসের একটি মৃত ভ্রূণের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের মোবাইল গায়েব থাকায় এটি সম্পূর্ণ ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিগণিত হয়। পরবর্তীতে পিবিআই ছায়া তদন্ত চালিয়ে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে সোমবার মধ্যরাতে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের নিখোঁজ মোবাইল ও নাজমা আক্তারের অফিসের আইডিকার্ড উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানান, নাজমা আক্তারের সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল, অন্যদিকে নাজমার স্বামী আলমগীর কবিরের সঙ্গেও তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। পরকীয়া ইস্যুতে আলমগীরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে গত ১ সেপ্টেম্বর তাদের বাসায় কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে হৃদয় গর্ভবতী নাজমার পেটে লাথি মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমার গর্ভপাত ঘটে এবং তিনি মারা যান। পরবর্তীতে আলমগীরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে আঘাত করে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করেন হৃদয়। জোড়া লাশ ও মৃত ভ্রূণ খাটের ওপর রেখে বাইরে থেকে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান তিনি।