Advertisement Banner

বিমান বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বিমান বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান

নিজেদের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ‘এয়ারবাস’কে বাদ দিয়ে ‘বোয়িং’ কোম্পানি থেকে এসব বিমান নেওয়া হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, পরিচালনা পর্ষদ নীতিগতভাবে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাম এবং অন্যান্য শর্ত নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

অনুমোদিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগেই বোয়িং থেকে বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

পরবর্তীতে সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে বিমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করল।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানান, দেশের এভিয়েশন সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় বলা হয়, এই বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রেই কার্যক্রম প্রসারের সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং আর্থিক প্রক্রিয়া শেষে বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিমানগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

কর্মকর্তারা জানান, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মূলত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য তৈরি বড় আকারের (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ। অন্যদিকে, বোয়িং ৭৩৭-৮ হলো মাঝারি আকারের (ন্যারো বডি), যা সাধারণত আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহার করা হয়।

নতুন এই বিমানগুলো যুক্ত হলে বিমানের পরিচালনা সক্ষমতা এবং রুট নেটওয়ার্ক বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বোসরা ইসলাম আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিমান বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই সহায়ক হবে। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এভিয়েশন সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সম্পর্কিত