নিজেদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া থেকে বিরতই থাকল পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে অল্প শাস্তি দিয়েছে খোলা রেখেছে জাতীয় দলে ফেরার দরজা।
গত সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, নেশনস লিগ চলাকালীন রোনালদোকে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে ২৫৫ ইউরোর।
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণে এক থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান আছে পর্তুগালের। তবে তারা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পর্তুগাল ফুটবলে রোনালদোর অবদানের জন্য শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে সেটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ফলে এই শাস্তি রোনালদোর জন্য খুব বড় হচ্ছে না। কারণ, এই এক মাসের মধ্যে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোনো ম্যাচ নেই। আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১৪ নভেম্বর। যদিও এটা উল্লেখ করা হয়নি যে রোনালদোর শাস্তি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে, নাকি এই ঘোষণার পর কার্যকর হবে।
এছাড়া রোনালদোকে যে পরিমাণে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে, সেটা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কেননা এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারের মাত্র ২৫৫ ইউরো খুবই সামান্য অঙ্ক। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে রোনালদো যে বার্ষিক বেতন পান, সেখানে এই ২৫৫ ইউরো অর্জন করতে তার লাগবে মাত্র ৪০ সেকেন্ড। তবে রোনালদোকে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিয়ম মেনে জরিমানা করেছে।
চলতি মাসের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে বদলি হিসেবে রোনালদোকে তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামানো হয়নি। ফলে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জে জেসুসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। এরপর এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোচ তার দেওয়া কথা রাখেননি এবং তাকে খেলানোর কথা বলেও খেলাননি। এ কারণে তিনি দলের বৃহত্তর স্বার্থে ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন।
রোনালদো নিজেই পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনকে বলেছিলেন, অধিনায়ক হিসেবে এ ধরনের কাজ করা ঠিক হয়নি তার। তাই তাকে যেন শাস্তি দেওয়া হয় এবং সেই শাস্তি মেনে তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরতে রাজি।
আর পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জে জেসুস বলেছেন, তিনি এখনো ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং দলে এখনো রোনালদোর প্রয়োজনীয়তা আছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার রোনালদোর ২০০৪ সালে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলারও তিনি এবং ২০১৬ সালে পর্তুগালের ইতিহাসে প্রথম ইউরো জেতার অভিযানে তিনি অধিনায়কত্ব করেছিলেন।