সরকারের কোনো চাপে নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও নানা পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কোনো চাপের কারণে নয়; নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা থাকে। তাই এই সময়টি বাদ দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।’’
নভেম্বর-ডিসেম্বর বাদ দিয়ে নতুন বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরুর ভাবনার কথা জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘‘দেখা যাচ্ছে যে ওই সময়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রমও কিছুটা পিছিয়ে গেছে।’’
ইসি জানান, রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরীক্ষার দায়িত্বে ব্যস্ত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা বেশ কঠিন।’’
এছাড়া, যেসব এলাকা বর্তমানে নির্বাচনের উপযোগী, সরকারের কাছে সেগুলোর তালিকা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাস্তবতা, বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের বিধান মেনেই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি চালাচালি করার কোনো নজির নেই উল্লেখ করে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘‘চিঠি চালাচালি এক ধরনের যোগাযোগ, আর সামনাসামনি বৈঠক অন্য ধরনের। সাধারণত আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কাউকে বলে দেয় না নির্বাচন কবে হবে—অতীতেও এমন কোনো নজির দেখা যায়নি।’’