প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, খরা, বজ্রপাত ও ভূমিকম্প মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য নিয়মিত হুমকি তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও এর ক্ষতিকর পরিণতির বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে আমাদের।
১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষ্য বহন করে। এসব দুর্যোগে শুধু প্রাণহানিই ঘটে না, মানুষের জীবিকা, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তাই শুধু দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা না করে আগেভাগেই প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ ছাড়া, পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকায় ভূমিকম্প হলে তার সম্ভাব্য পরিণতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, নদীদূষণ রোধ, নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের হাওরাঞ্চলের মানুষ আগাম সতর্কতা পেয়ে আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। দুর্যোগের আগে ঝুঁকি কমানো এবং পরে দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ আন্তরিকতা ও কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।