যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রিপাবলিকান দলের নেতাদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতারা ও সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত এলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বন্ধ হলো। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন হেগসেথের সঙ্গে তার প্রকাশ্য মতবিরোধের বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি হলো। তবে পেন্টাগন বলেছে, এ বিষয়ে দুজনের অবস্থান ‘সম্পূর্ণ এক’।
টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন হেগসেথ। ২০০৯ সালে হাসানের হামলার ঘটনাস্থল ছিল এই ঘাঁটি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য কোনো দেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার বা সরাসরি সম্প্রচার করে বলে জানা নেই।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমার মনে হয়, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সবার দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা অন্যদের এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে ভূমিকা রাথতে পারত। বিশ্ববাসী দেখতে পেত সন্ত্রাসী ও হাসানের মতো নিকৃষ্ট লোকদের সঙ্গে আমেরিকা কীভাবে আচরণ করে। কিন্তু অনেক ভালো ও বিবেকবান মানুষ সরাসরি সম্প্রচার বা অন্য কোনো মাধ্যমে তার মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে চান না।”
ট্রাম্প আরও লেখেন, “নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তবে এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।”
হাসানের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে সরাসরি উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত নিয়ম।
ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ তার দলের কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা এবং ধর্মীয় নেতারা পেন্টাগনের এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কেউ কেউ এর কঠোর সমালোচনাও করেন।
মতামত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাথলিক সদস্যদের আধ্যাত্মিক সেবার দায়িত্বে থাকা আর্চবিশপ টিমোথি ব্রগলিও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। পোপ লিও সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
নিদাল হাসান। ছবি: রয়টার্স
হাসানের আইনজীবীর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে ৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
এর আগে হেগসেথ বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধের জন্য যে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হয়, তা মানুষকে বোঝানোর জন্যই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সম্প্রচার করা প্রয়োজন।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রিচার্ড নিল মূল পরিকল্পনাটিকে ‘নৈতিক বিচারবোধ ও মৌলিক মানবিকতার চরম ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।