দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে রওনা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভ শুরুর আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হার মেনে নিয়েছেন। এ কারণে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় এবং দিল্লি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
দিল্লিতে পৌঁছালে আটক করা হবে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “তারা যদি আমাকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে চায়, করুক। আমি তার জন্য প্রস্তুত। আমাকে গ্রেপ্তার করুক বা আটক করুক, তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।”
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এ খবর জানিয়েছে। তাদের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন অভিজিৎ।
যন্তর মন্তরে আজ শরিবারের বিক্ষোভে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও যোগ দেবেন। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে অভিজিৎ বলেন, “১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে বিজেপি সরকার সারা দেশে হাজার হাজার তরুণকে আটক করেছে। মোদি, এভাবে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। এ দেশের তরুণেরা এখন আর আপনাকে ভয় পায় না।”
আজ সকালে আরেক পোস্টে অভিজিৎ বলেছেন, “আমাদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই মোদি হার মেনে নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় এবং দিল্লি বন্ধ করে দেওয়া শক্তির লক্ষণ নয়, বরং নিজের দেশের মানুষকে ভয় পাওয়ার লক্ষণ।”
এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
বিক্ষোভের জন্য পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে রাজধানীজুড়ে অপরাধীসহ ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।
এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন অন্য রাজ্য থেকে আসা ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্যপথ সংযোগস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।