কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে বহনকারী অটোরিকশাচালক সুমনই তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে করা এক সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে কুমিল্লা রেইসকোর্স নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করে। এরপর আসামী সুমন মিয়া ভিকটিমকে শটকার্ট রাস্তা দিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নূরজাহান হোটেল এর সামনে হতে ইউটার্ন করে চাঁদপুরগামী রোড দিয়ে বিজরা বাজার হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে চলে যান। পরে তাজমিনকে লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকার নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম তাজমিন ও অটোরিকশাচালক সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। ভিকটিম দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে, তবে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তাকে কাবু করে ফেলেন সুমন।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ভিকটিমকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গিয়ে গোসল করেন। যাওয়ার সময় ভিকটিমের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে যান। আইফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।
পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকার ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।