জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার ওপর কয়েক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিরল ঘটনা ঘটেছে।
বিতর্কের প্রথম দিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের হলে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলাকালে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিরল ব্যতিক্রম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উচ্চস্বরে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার পাঠানো খবরের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ মঞ্চে উঠে কিউবায় দুর্নীতির কথিত প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি দেখাতে শুরু করার পরপরই কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাদের নির্ধারিত টেবিলে আঘাত এবং কার্যপ্রণালিগত আপত্তি উত্থাপন করেন।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে হলের মধ্য দিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে ওয়াল্টজ ও কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। রদ্রিগেজ ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে ওয়াল্টজ কিউবার প্রতিনিধিদলকে সরে যেতে বলেন।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান কিছু সময়ের জন্য বিতর্ক স্থগিত করেন। পরে আবার কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার ওপর কয়েক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব নিয়ে দুই দিনব্যাপী বিতর্কের পর বুধবার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে উত্থাপিত প্রস্তাবটি ১৩০ ভোটে পাস হয়েছে। এর বিপক্ষে ভোট দেয় ১৭টি দেশ এবং ভোটদানে বিরত থাকে ২৫টি দেশ। এতে ১৯৯৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের হেলমস-বার্টন আইনের মতো আইন ও বিধিবিধানের অব্যাহত প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।