রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি।
আজ বুধবার সংগঠনটির সভাপতি ডা. এস.এম. তপু, সাধারণ সম্পাদক ডা. মুশফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জামিল আক্তার, কোষাধ্যক্ষ ডা. রাকিবুল ইসলাম এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক ডা. তাসনিয়া রিশা স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম ঘাটতি চলছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত দর্শনার্থী বা রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর চরম অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত মবের শিকার হচ্ছেন।
একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রোগীর লোকজনের উগ্র আচরণ ও হুমকির মুখে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে বাধ্য হয়ে সিভিল ড্রেসে ওয়ার্ড ত্যাগ করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া হাসপাতালে অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এসব সমস্যা সমাধানে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনের প্রবেশের নিয়ম কার্যকর করা, রোগী ভর্তির দিন ও পরবর্তী দিন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অনতিবিলম্বে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
এসব দাবি ও বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে এবং দাবি মেনে না নিলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ চরচাকে বলেন, তারা পরিস্থিতি নিরসনে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে সভা করছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলোতে মিডলেভেল চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং ওয়ার্ডে রোগীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।