যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুল আরেফিন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের তিনজন কর্মচারী এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদ (৩০), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩০) এবং মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।
গত বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
হাফিজুল আরেফিন জানান, মো. মফিজুল ইসলাম চাকরি প্রত্যাশায় এই চক্রের কাছে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হন। দ্বিগুণ টাকা লাভের আশায় তিনি এই চক্রে জড়িয়ে পড়েন। গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে মফিজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তার নুর মোহাম্মদের মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৬টায় যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার একটি প্রশ্ন তার হোয়াটসঅ্যাপে আসে। নুর মোহাম্মদ এই প্রশ্নের উত্তর লিখে জাহাঙ্গীরকে পাঠান।
এই চক্রের মূল হোতা নুর মোহাম্মদ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজুল আরেফিন বলেন, “এরা মূল হোতা না। মূল হোতাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের চেষ্টা চলছে।”
প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেউ জড়িত আছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে আমরা প্রমাণ না পেলে কিছু তো বলতে পারি না। আমরা এটা তদন্ত করে দেখছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চক্রটি অতীতে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, সার্টিফিকেট, প্রশ্নপত্র, সিল ও চেক উদ্ধার করা হয়েছে।