শিক্ষাব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় গতকাল বুধবার রাস্তায় নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এ সময় তারা একটি সরকারি ভবন ও দুটি ব্যাংকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ময়লার পাত্র উল্টে ফেলে এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশ ভাঙচুর করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছাকাছি রাইফাইসেন ব্যাংকের একটি শাখাতেও আগুন ধরে যায় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ। গত বছরের মে মাসে নির্বাচনে জয়ী হয়ে চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন তিনি। তবে এরপর থেকে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তার প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে। বিরোধী দলের নেতাদেরও বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না বিক্ষোভকারীরা।
এই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এদি রামার বিরুদ্ধে গ্রীষ্মজুড়ে চলা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিসমাপ্তি ঘটল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনে আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকায় একটি বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব ঘিরে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পটি নিয়ে আইনি বিরোধও চলছে।
পুলিশের দিকে পাথর ছুড়তে ছুড়তে লোরা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটা একটা বিপ্লব। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে করতে আমরা ক্লান্ত। রামা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা থামব না।” নিজের পদবি জানাতে রাজি হননি তিনি।
অন্য বিক্ষোভকারীরা ‘পদত্যাগ করো’ ও ‘অপরাধীদের পুলিশ’ স্লোগান দেয়।
আলবেনিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের বিক্ষোভ এলবাসান ও শকোদ্রা শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
সরকার এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।
“প্রতিবাদ করা একটি বৈধ অধিকার, তবে একে সহিংসতা, শহরের সম্পদ ধ্বংস বা রাস্তায় বিশৃঙ্খল মারামারির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না,” ফেসবুক পোস্টে বলেছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী আলবানা কোসিউ। “আমি শিক্ষার্থীদের এবং প্রতিবাদ করার অধিকারে বিশ্বাসী প্রতিটি সৎ নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাই; সহিংসতা ও ভাঙচুর থেকে দূরে থাকুন!” যোগ করেন তিনি।
পুলিশও এক বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “যে কেউ সহিংসতা চালালে, সম্পত্তিতে আগুন দিলে বা তা ধ্বংস করলে কিংবা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করলে, তার দায় ব্যক্তিগতভাবে তাকেই নিতে হবে। সংঘটিত অপরাধ অনুযায়ী তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”