অ্যালফাবেট (গুগল) তার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ দিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গেছে—২০০৪ সালে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে কোনো একদিনে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় দরপতন।
এর ফলে অ্যালফাবেট প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারানোর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে একদিনে ঘটা দ্বিতীয় বৃহত্তম লোকসান। এর আগে কেবল এনভিডিয়া এর চেয়ে বড় লোকসানের মুখে পড়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই দিন চীনের ‘ডিপসিক’-এর আবির্ভাব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেদিন এনভিডিয়ার বাজারমূল্য প্রায় ৫৯৩ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।
ইয়াহু ফাইন্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, এনভিডিয়ার রেকর্ডটি ‘নিজের করে নিতে হলে’ অ্যালফাবেটের শেয়ারের দর প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ২৭৪.৭৫ ডলারে নেমে আসতে হবে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে ২২ জুন স্পেসএক্স-এর ৪০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের লোকসানের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে, যা এতদিন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল।
ডলারের অঙ্কে এটিই অ্যালফাবেটের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ দিন। এর আগে ২৩ জুলাই কোম্পানিটির প্রায় ২৭৫ বিলিয়ন ডলার মূল্য কমেছিল, যা ছিল আগের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। বেসপোক ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে কোনো আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পরবর্তী সময়ে এটিই হতে যাচ্ছে শেয়ারের সবচেয়ে বড় দরপতন। এর আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডটি ছিল ২০০৮ সালের জুলাই মাসে, যখন শেয়ারের দর প্রায় ১০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
এই প্রান্তিকটি উভয় পক্ষের জন্যই বিতর্কের যথেষ্ট খোরাক জুগিয়েছে। গুগল ক্লাউডের আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং জেমিনি অ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক শ কোটি ছাড়িয়েছে। তবে সার্চ থেকে আয় ১২% বেড়ে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও, তা ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলারের পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল।
বিনিয়োগকারীরা কেন এই ত্রৈমাসিকটিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিভোটাল রিসার্চের সিইও জেফরি ওলোডার্জাক বলেন, “যারা বাজারের মন্দা নিয়ে উদ্বিগ্ন (যাদের বিয়ার বলা হয়), তারা যুক্তি দেবেন যে—এই প্রথম ত্রৈমাসিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের সার্চ ব্যবসার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।”