Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> সংক্ষেপে

‘বিরক্তিকর’ ম্যাচেই ইতিহাসের মহাকাব্য

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৪: ১৪
‘বিরক্তিকর’ ম্যাচেই ইতিহাসের মহাকাব্য

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এক সাক্ষাৎ বিরক্তি। এই বিরক্তি মাঠে নামা দুই দল থেকে শুরু করে ফুটবলপ্রেমী—সবার। যেখানে সবার মনোযোগ থাকে ফাইনালের দিক, সেখানে এই ম্যাচটি সেভাবে আকর্ষণ তৈরি করতে পারে না। খেলোয়াড়দের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ম্যাচটা রীতিমতো অত্যাচারই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে হারের পর যেখানে পরাজিত দুই দলের খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত–বিধ্বস্ত ও মানসিকভাবে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে, সেখানে এক বা দুই দিনের মাথায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ তাদের জন্য ভয়ংকর এক ব্যাপার।

Advertisement

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটাও ঠাঁই পাচ্ছে ইতিহাসে। এ ম্যাচে ইংল্যান্ড আর ফ্রান্স জন্ম দিয়েছে মহাকাব্যের। দশ গোলের পাগলাটে রাতে যারা ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নিশ্চয়ই তাদের আক্ষেপের সীমা নেই।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, তৃতীয় স্থানের সান্ত্বনা তাদের কাছে এক অসমাপ্ত প্রতিশোধের মঞ্চ। গতিময় ফুটবল দিয়ে ফ্রান্সকে চেপে ধরে ৪৫ মিনিটেই ৪ গোল। ডান দিকে বুকায়ো সাকা আর বাম দিকে জুড বেলিংহাম—এই দুইয়ের যুগলবন্দীতে ফরাসি রক্ষণ উড়ে গেল খড়কুটোর মতোই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ইতিহাস সৃষ্টির রাত ছিল এমবাপ্পের। ছবি: এপি/ইউএনবি
ইতিহাস সৃষ্টির রাত ছিল এমবাপ্পের। ছবি: এপি/ইউএনবি

ইংল্যান্ডের চারটি গোল যেন চার বজ্রপাত। ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইস, ১৮ মিনিটে এজরি কনসার গোলের পর ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বুকায়ো সাকার আরও দুই গোল—পুরো বিশ্বকাপে যে ফ্রান্সকে অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছিল, সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর সেই ফ্রান্স কতটা বিধ্বস্ত সেটাই বোঝা যাচ্ছিল। প্রথমার্ধে যে ম্যাচে কোনো দল ৪–০ গোলে এগিয়ে যায়, সে ম্যাচের বাকি থাকে কি! ফুটবল রোমান্টিকেরা হয়তো আরও একটি ‘সেভেনআপ’ গল্প তৈরির অপেক্ষায় ছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭–১ হারের সেই মহাকাব্যিক ইতিহাস, যে বিশ্বকাপের চিরন্তন এক গল্পই হয়ে আছে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই ফ্রান্সের বোধহয় মনে পড়ল, তাদের কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো এক গোল মেশিন আছে।

যে রাত দেখল ভয়ংকর ইংল্যান্ডকে। ছবি: এপি/ইউএনবি
যে রাত দেখল ভয়ংকর ইংল্যান্ডকে। ছবি: এপি/ইউএনবি

বিরতির পর মাঠের সবুজ ঘাসে নামলেন এক অন্য এমবাপ্পে। তিনি যেন আর মানুষ ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন সময়ের বিরুদ্ধে ছুটে চলা এক জীবন্ত উল্কা। প্রথমে এক গোল, তারপর আরও এক। ব্র্যাডলি বারকোলা যোগ করলেন আরেকটি। উসমান দেম্বেলের জাদুতে ম্যাচ এমন এক রোমাঞ্চকর মোড় নিল, যেখানে ইংল্যান্ডের ৪-০ গোলের নিরাপদ পাহাড়টা হঠাৎ রূপ নিল ৫–৪ স্কোরলাইনে।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স, নির্দিষ্ট করে বললে, এমবাপ্পে আর দেম্বেলেদের ফুটবল শৈলিতে ফুটবল যে এক শিল্প, যেখানে প্রতিটি নতুন গোল আগের গোলের অর্থ বদলে দেয়, তা মায়ামির দর্শকরা স্তম্ভিত হয়ে দেখছিলেন। ফ্রান্সের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ইংল্যান্ডের আধিপত্যকে এক ঝটকায় আতঙ্কে রূপ দিল। আর এই রোমাঞ্চকর ভয়ই তো ফুটবলকে সুন্দর করে তোলে। সেটাই দ্বিতীয়ার্ধে মনে পড়ছিল বারবার।

কিন্তু আবারও বুকায়ো সাকা! তিনি ফিরিয়ে আনলেন ইংল্যান্ডকে। পেনাল্টি থেকে গোল করে পূরণ করলেন হ্যাটট্রিক। এরপর জুড বেলিংহাম। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে তিনি যে দৌড় শুরু করেছিলেন, তা শুধু গোল করার চেষ্টা ছিল না, ছিল এক রাজকীয় ঘোষণা। ফরাসি ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তিনি যখন বল জালে জড়ালেন, স্কোরবোর্ড তখন জ্বলজ্বল করছে— ৬–৪।

তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা কিলিয়ান এমবাপ্পের অমরত্বের ম্যাচও ছিল। দুই গোল করেছেন। বিশ্বকাপের নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১০–এ। বিশ্বকাপটা জিততে না পারেন, গোল্ডেন বুট জয়ের পথে তিনি এগিয়ে গেলেন অনেকটা পথই। লিওনেল মেসি যখন রোববার রাতে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালটা খেলতে নামবেন, তখন তিনি এমবাপ্পের চেয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে পিছিয়ে। এমবাপ্পে বিশ্বকাপেই নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ২২–এ। সেটাও মেসির ২১ গোলের চেয়ে একটি বেশি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এই এমবাপ্পেই।

ফুটবল এমনই—একই রাতে একজন মানুষ ইতিহাস গড়েন, অথচ ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে পারেন না। গোল্ডেন বুটের চূড়ায় উঠেও তার মুখের নীরবতায় মিশে রইল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব আর দলের ব্যর্থতার এক অদ্ভুত বৈপরীত্য।

ফরাসিরা বিধ্বস্ত বুকায়ো সাকার হাতে। ছবি: এপি/ইউএনবি
ফরাসিরা বিধ্বস্ত বুকায়ো সাকার হাতে। ছবি: এপি/ইউএনবি

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা পারফরম্যান্স। দীর্ঘ ছয় দশকের হাহাকার, টাইব্রেকারের অভিশাপ আর সেমিফাইনালের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে বেলিংহ্যাম, সাকা, কোল পামার আর ডেকলান রাইসদের এই তরুণ প্রজন্ম প্রমাণ করল—ইংল্যান্ডের ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবার সত্যিই আলোর মুখ দেখছে।

তবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচের অন্য একটা দিক খেয়াল করেছেন কেউ? এ ম্যাচে দুই দলের গোলগুলো কারা করলেন? গোলগুলোর উৎস ম্যানচেস্টার, লন্ডন কিংবা প্যারিসে তৈরি হয়নি। এই গোলগুলোর উৎস নাইজেরিয়ার উপকূল, ঘানার জনপদ আর জ্যামাইকার দ্বীপ। একই সঙ্গে ক্যামেরুন, আলজেরিয়া আর মৌরিতানিয়ায়। ইংল্যান্ড–ফ্রান্স দুটি দলের শক্তিই এখন অভিবাসী ফুটবলারদের দিয়ে গড়া। দুটি দলই ঔপনিবেশিক অতীতের প্রতিধ্বনি। যে দুই সাম্রাজ্য একসময় পৃথিবীকে ভাগ করেছিল, সেই ইতিহাসেরই সন্তানরা আজ ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের জার্সিকে দিচ্ছে নতুন অর্থ। মায়ামির দর্শক থেকে শুরু করে ‘বিরক্তিকর’ এই ম্যাচ যারা বিরক্তি নিয়ে দেখতে বসেছিলেন, তারা সবাই এক দারুণ ইতিহাসেরই সাক্ষী।

বিষয়: কিলিয়ান এমবাপ্পেফুটবল২০২৬ বিশ্বকাপখেলাফ্রান্স ফুটবলইংল্যান্ড ফুটবল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ৭ শর্তে দুইদিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে সম্মত ইরান

    ৭ শর্তে দুইদিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে সম্মত ইরান

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করতে সম্মত হয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অংশ আলোচনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল তেহরান। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান।

  • সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    ৫৬ বছর বয়সী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দুজনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গতকাল একটি নতুন যাত্রা শুরু হলো।’ পোস্টে নিধি রাজদানকে ট্যাগও করেন তিনি। জবাবে ৪৯ বছর বয়সী সাংবাদিক নিধি লেখেন, ‘হয়ে গেছে ভাই @OmarAbdullah’।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন: জানালেন আরাঘচি

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন: জানালেন আরাঘচি

    আরাঘচি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল দোহায় রয়েছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “পরামর্শ অব্যাহত রাখতে আমার একজন সহকারী বর্তমানে কাতারে রয়েছেন।”

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা নিয়ে ‘সতর্ক আশাবাদী’ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা নিয়ে ‘সতর্ক আশাবাদী’ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী

    সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, “কিছুটা ইতিবাচক সম্ভাবনা না থাকলে ফিল্ড মার্শাল কেন দুবার সেখানে যাবেন? সুতরাং হ্যাঁ, অবশ্যই।”