রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. শরীফ নামে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। সেনা আইন অনুযায়ী গঠিত তদন্ত আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই আবেদন করা হয়েছে।
ডিজিএফআই সদর দপ্তর থেকে গতকাল সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে লে. কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আবেদ এই আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল সোমবার ডিজিএফআইয়ের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানার মামলা ৭৯(১০)২৬ এর দুই আসামিকে সেনা হেফাজতে চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদপুর থানার মামলা নম্বর-৭৯ এর অভিযুক্তদের মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘তদন্ত আদালত’ গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।
এমতাবস্থায় অভিযুক্ত দুই সেনা সদস্যকে ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে চিঠিতে আরও আশ্বস্ত করা হয় যে, সেনা আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তার অগ্রগতি ও ফলাফল আদালতকে অবহিত করা হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধি এবং সেনা আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে সামরিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের স্বার্থে আসামিদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এটি আইনের নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া।”
প্রসিকিউটর আরও বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে নিশ্চিত করতে চাই-অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ভুক্তভোগী যাতে পূর্ণ ন্যায়বিচার পান। বিচার প্রচলিত আদালতেই হোক বা সামরিক ট্রাইব্যুনালে, অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে।”
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের এই দুই সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।