জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনসহ বিভিন্ন সূত্রে নথিভুক্ত সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ এবং মাজার ও দরগাহ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মানবাধিকারকর্মীরা এ দাবি জানান।
সভায় ময়মনসিংহের দীপু চন্দ্র দাসের ঘটনা, যশোরের অভয়নগরে হামলা, রূপলাল হত্যাকাণ্ড এবং দেশব্যাপী মাজার, দরগাহ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও একটি পৃথক কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুরে গণপিটুনিতে নিহত রূপলাল চন্দ্রের ছেলে জয় চন্দ্র জানান, তার বাবার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলোও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা তাদের জীবিকা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি। বাবার হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হওয়ায় তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না।
ময়মনসিংহের দীপু চন্দ্র দাসের স্ত্রী মেঘনা দাস বলেন, “আমার স্বামীর হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আমরা তার হত্যার বিচার পাইনি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে চাকরিসহ বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি”।
সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজের ইমরান হোসেন জানান, এ পর্যন্ত ১০৩টি মাজারে হামলা হয়েছে। ৫০টি মাজারে ওরস উদযাপন বন্ধ হয়ে গেছে, ১৮টি মাজার সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং এসব হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
বিচারের প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন বলেন, “অধিকাংশ মামলা তদন্তাধীন রয়ে গেছে বা কোনো আইনি প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি।” তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার ঘটনাগুলোর আরও পদ্ধতিগত নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি সুফি ও বাউল সম্প্রদায়সহ সকল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রীতিনীতি উদযাপনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে কেবল জাতিসংঘের প্রতিবেদন মিললেও রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি প্রযুক্তি ও মুঠোফোনের যুগেও রূপলাল হত্যা ও মাজার ভাঙচুরের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো মেলেনি।” তিনি ‘অজ্ঞাতনামা আসামির’ ঔপনিবেশিক চর্চাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় ঘটনা ঘটার আগেই ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে একটি কার্যকর ‘পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা’ গড়ার ওপর জোর দেন।