দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমান্তজুড়ে সিউলবিরোধী প্রচারমূলক সম্প্রচার আবার চালুর পরিকল্পনা করছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এ কথা জানিয়েছেন। স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মুখসারির তিন সেনা আহত হওয়ার পর দুই দেশের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের এ কর্মসূচি আবার শুরু হতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন ও সিউলবিষয়ক কিম জং উনের প্রধান মুখপাত্র কিম ইয়ো জং বুধবার এ ঘোষণা দেন। ওই দিন তিনি সীমান্তের সম্মুখবর্তী এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এ কাজে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো উসকানি দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া আরেক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে সীমান্তজুড়ে ‘নতুন পাল্টা ব্যবস্থাগুলো’ প্রস্তুত রাখা হবে এবং লাউডস্পিকারগুলোও ‘প্রস্তুত অবস্থায়’ রাখা হবে।
সিউলের প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রেখে কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে মাইন, কাঁটাতারের বেড়া, ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধকসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্ত করছেন। এরই মধ্যে সীমান্তটি বিশ্বের অন্যতম সামরিকভাবে সুরক্ষিত সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
ভাইয়ের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন মার্শাল পাক জং চনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটি পরিদর্শনের সময় কিম ইয়ো জং সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের কাজকে ‘পবিত্র ও মহান উদ্যোগ’ বলে অভিহিত করেন।
তার ভাষায়, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার নেতার নীতিকে সমর্থন করে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তার সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন প্রতিপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক নাম রিপাবলিক অব কোরিয়ার আদ্যক্ষর ব্যবহার করে কিম ইয়ো জং বলেন, “আমাদের কৌশলগত অভিযানকারী দলগুলো নতুন অবস্থান নিচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যেই পুরো সীমান্তজুড়ে রিপাবলিক অব কোরিয়ার বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের লাউডস্পিকারগুলো চালু করা হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণে নিয়োজিত উত্তর কোরীয় সেনাদের ফিরিয়ে দিতে দক্ষিণ কোরিয়া যে সতর্কতামূলক গুলি চালায়, তাতে যদি “আমাদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও সেনাসদস্যদের নিরাপত্তার প্রকৃত ক্ষতি” হয়, তাহলে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তরক্ষীরা “বিবেকবর্জিত সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের প্রতি কোনো দয়া দেখাবে না”।
কিম ইয়ো জংয়ের লাউডস্পিকার সম্প্রচার পুনরায় চালুর হুমকি সম্পর্কে জানতে চাইলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুং বিনা বৃহস্পতিবার বলেন, সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপের জবাবে সিউলকে ‘আনুপাতিক ব্যবস্থা’ নিতে হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বুধবারের পরিদর্শনের সময় সেনাদের উদ্দেশে কিম বলেন, “আমাদের নতুন অগ্নিশক্তিসম্পন্ন ইউনিটগুলো তাদের গোলাবর্ষণের অবস্থান নিয়েছে—এই বিষয়টি ওই দুর্বৃত্তদের বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে আমাদের সামরিক নেতৃত্ব জোর দিয়েছে।”
কিম ইয়ো জং বলেছেন, সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ ‘মিথ্যা অজুহাত’। তার দাবি, মাইন বিস্ফোরণের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ‘লাল রেখা অতিক্রম করে’ আরও বেড়েছে।
শীতল যুদ্ধের সময় থেকে চলে আসা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশলগুলোর মধ্যে লাউডস্পিকারে প্রচার অন্যতম। উত্তেজনা বাড়লে দুই কোরিয়া বিভিন্ন সময়ে একে অপরের বিরুদ্ধে এ কৌশল ব্যবহার করেছে।