‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই পক্ষ এক হয়েছে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
আজ বুধবার দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তিনি এমন দাবি করেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধীদলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। সবাই সতর্ক থাকবেন।”
মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল রাজশাহীর জনসভায় পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধীদলের মধ্যে আঁতাত এবং অর্থ সরবরাহের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার যে দাবি করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী সত্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে দেশবাসীর সামনে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই।”
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্য হলে প্রশ্ন হলো-গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? আর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি না থাকলে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কেন? প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অমান্য করে এবং চব্বিশ-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার নিজেরাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করছে। একদিকে পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ উপেক্ষা করা হচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের দায় আঁড়াল করতে আঁতাতের অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সৎ রাজনীতি নয়।”