উচ্চশিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে একটি আলাদা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ পরিকল্পনার কথা জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈষম্য রয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শহরে অবস্থিত, আবার কোনোটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে। এর মাধ্যমে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদেরও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অনলাইন প্রযুক্তির বিকাশ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ এখন ঘরে বসেই শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি ও অবকাঠামোকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে এবং এ জন্য ইউজিসি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।