Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া রোহিঙ্গারা

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৪৫
মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া রোহিঙ্গারা

সম্প্রতি আন্দামানে নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। তাদের সবারই সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারমধ্যে ছিলেন ২০ জন রোহিঙ্গা। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে এমন বিপদসংকুল যাত্রার যে হিড়িক পড়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

Advertisement

এই ঘটনায় বেঁচে ফেরাদের মধ্যে আছেন রহিলা বেগম। আন্দামান সাগরে টানা দুই দিন দুই রাত একটি ভাঙা কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে ভেসে ছিলেন তিনি। মালয়েশিয়াগামী ওই নৌকায় উপচে পড়া ভিড় ছিল। এরপর যে কয়েকজন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন, রহিলা তাদেরই একজন।

তিনি বলেন, “আমার শরীরের শক্তি শেষ হয়ে আসছিল। এক সময় কাঠের তক্তাটি ভেসে দূরে চলে গেল, গভীর সাগরে আমি একা হয়ে পড়লাম। আমি আল্লাহর কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছিলাম। বাবা-মায়ের দোয়া আমার সাথে ছিল। এরপর আল্লাহর কুদরতে একটি জাহাজ এসে আমাকে উদ্ধার করে”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে জীবনযাত্রার মান অবনতি এবং মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণঘাতী এই সমুদ্রযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আন্দামানে ডুবে যায় নৌকাটি। ছবি: রয়টার্স
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আন্দামানে ডুবে যায় নৌকাটি। ছবি: রয়টার্স

ক্যাম্পে বছরের পর বছর কর্মসংস্থানহীন জীবন, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং ত্রাণ কমে আসায় তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, পাচারকারী বা নৌকাডুবির ভয়ের চেয়েও এখন বাঁচার তাগিদ অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

রহিলার হাত ও শরীরে পোড়া দাগ যা সমুদ্রের পানির সাথে মিশে থাকা নৌকার জ্বালানি থেকে হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। জাতিসংঘ সেই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করলেও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে।

নয় বছর পার হয়ে গেলেও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো লক্ষণ নেই। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। সেখানে জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ করতে পারেন না, চলাফেরায় রয়েছে বিধিনিষেধ। ত্রাণের বরাদ্দ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে এখন অনাহারে থাকতে হচ্ছে। এই নিরাপত্তাহীনতা ও পাচারকারীদের তৎপরতা তাদের চরম হতাশায় ঠেলে দিচ্ছে।

এত বড় বিপদের পরও কেন আবার ফিরে যেতে চান? এমন প্রশ্নে রহিলা বলেন, “সুযোগ পেলে আমি আবার চেষ্টা করব। এখানে ক্যাম্পে আমার স্বামী নিয়মিত আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। আমি তার হাত থেকে এবং এই কষ্টকর জীবন থেকে মুক্তি চাই। এখানে আমার আর মন টেকে না।”

রহিলার এই গল্প মূলত একটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিফলন মাত্র।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। সে বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছিলেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন মারা গেছেন। এটা বিশ্বের যেকোনো শরণার্থী সমুদ্রপথের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। ছবি: রয়টার্স
২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। ছবি: রয়টার্স

২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২ হাজার ৮ শর বেশি রোহিঙ্গা এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই যাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই থাকে। পাচার, শোষণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও অনেকে দেশ ছাড়ছেন।

অধিকাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইলেও নাগরিকত্ব না থাকা এবং ক্রমাগত নিপীড়ন তাদের আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রটেকশন বিষয়ক মুখপাত্র অ্যাস্ট্রিড কাস্টেলিন জানান, ত্রাণ কমে যাওয়ায় শরণার্থীরা বাল্যবিবাহ, জুয়া, অপহরণ এবং বিপজ্জনক অভিবাসনের মতো ক্ষতিকর পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তরুণ এবং তারা একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে, যার ফলে যুবসমাজ ও পরিবারগুলো এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

রহিলা বেগমের জন্য জীবনের সমীকরণটি এখন খুবই কঠিন, হয় ক্যাম্পের দুর্বিষহ জীবন মেনে নেওয়া, না হয় একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় জীবনের শেষ ঝুঁকি নেওয়া।

তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে মালয়েশিয়া পৌঁছান, আমি সেখানে একজন ভালো মানুষকে বিয়ে করে নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই। আর তা না হলে সেখানে ভালো মানুষের আশ্রয় নিয়ে থাকব। আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি।’’

বিষয়: নৌকাডুবিনিহতইউএনএইচসিআররোহিঙ্গা শরণার্থীরোহিঙ্গা ক্যাম্পরোহিঙ্গা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।