Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

অফ সিজনেও বাজার চাঙ্গা রাখছে যে আম

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ১১
অফ সিজনেও বাজার চাঙ্গা রাখছে যে আম
নওগাঁর আমের বাজার মাতিয়ে রেখেছে কাটিমন। ছবি: ইউএনবি

আমের মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তারপরও নওগাঁর আমের বাজার মাতিয়ে রেখেছে কাটিমন। নতুন এই জাতের আমের সরবরাহ থাকায় জেলার সবচেয়ে বড় আমের বাজার সাপাহারে কৃষক ও ক্রেতাদের আনাগোনা এখনও চলছে।

Advertisement

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, সাপাহার বাজারজুড়ে কাটিমন আমের ভালো সরবরাহ রয়েছে। কৃষকরা বাগানের তাজা কাটিমন আম ভ্যানে করে নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও নতুন আম পেয়ে ক্রেতারাও খুশি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাটিমনের কারণে বাজারের চিত্র অনেকটা মূল আমের মৌসুমের মতোই। মৌসুমি আমের সরবরাহ কমে যাওয়ার পর সাধারণত বাজারে আমের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে কাটিমন সেই চিত্র বদলে দিয়েছে।

সাধারণত আগাম জাত হিসেবে বাজারে আসে আম্রপালি। এরপর নাক ফজলি, হিমসাগর, হাড়িভাঙা, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম বাজারে ওঠে। জুনের শেষ দিকে নিয়মিত মৌসুম শেষ হলে আমের সরবরাহও কমে যায়। তবে কাটিমনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। বছরে একাধিকবার ফলন দেওয়ার সক্ষমতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নওগাঁয় বাণিজ্যিকভাবে এই জাতের চাষ দ্রুত বাড়ছে।

পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন হারিপুরের কৃষক মনসুর আলী। তিনি বলেন, “প্রতি মণ আমের দাম আট হাজার টাকা। তবে ব্যবসায়ীরা ছয় হাজার ৫০০ টাকা প্রস্তাব দিয়েছেন। সাত হাজার টাকা হলে বিক্রি করব। আমের মানভেদে দাম কম-বেশি হয়।”

বালুকাডাঙ্গার কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “এ সময় অন্য জাতের আম বাজারে না থাকায় কাটিমনের চাহিদা বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।”

‘আমাদেরকে পুতুল বানানো হয়েছে, আমাদের বাজার নেওয়ার জন্য’ Cultural Terrorist

স্থানীয় ক্রেতা প্রদীপ বলেন, “অফ-সিজনে কাটিমনের এত বড় বাজার আগে কখনো দেনিনি। এ সময় সাধারণত বাজারে আম পাওয়া যায় না। সুন্দর আম দেখে বাড়ির জন্য কিনতে ইচ্ছা হচ্ছে।”

সরগডাঙ্গার কৃষক হাফিজুর রহমান ১৬ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতি মণ আম প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, “বাগানের গাছগুলোতে এখনও মুকুল রয়েছে। ফলে নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর পর্যন্ত আমের সরবরাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে প্রায় সারা বছরই এই জাতের আম পাওয়া সম্ভব।”

হাফিজুর রহমান বলেন, “২০১৯ সালে অনলাইনে একটি ভিডিও দেখে কাটিমন চাষে আগ্রহী হই। ২০২১ সালে গাছে প্রথম ফলন আসে। বর্তমানে বাগানে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজ করে।”

নিশ্চিন্তপুরের কৃষক নাসির উদ্দিনও ২০১৯ সালে ইউটিউবে ভিডিও দেখে কাটিমনের চারা রোপণ করেন। গত বছর ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করলেও এ বছর তা বাড়িয়ে ৩৭ বিঘা করেছেন তিনি। বাগানে নয়জন মানুষের কাজ করেন।

নাসির উদ্দিন বলেন, “কাটিমন চাষ লাভজনক হলেও এতে প্রচুর পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচ রয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ আম ছয় হাজার ৩০০ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী সমর সাহা বলেন, “অফ-সিজনে কাটিমন আমের এমন জমজমাট বেচাকেনা আগে দেখিনি। অন্য জাতের আমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না থাকায় কাটিমন তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। পোরশা, ধামইরহাট ও পত্নীতলাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও কাটিমন আম নিয়ে সাপাহার বাজারে আসছেন।”

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সাপাহারের পাশাপাশি নওগাঁর পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রাণীনগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কাটিমনের চাষ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, “বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন চাষ হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৯৭ হেক্টর। কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় এ জাতের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কাটিমন সারা বছর ফলন দিতে পারে বলে মৌসুম ছাড়াও ভোক্তারা আম খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।”

বিরিয়ানিতে আলু এল কীভাবে?biriyani.

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “জেলায় কাটিমন চাষের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২৫৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ১৯০ হেক্টর।”

তিনি বলেন, “চাষাবাদ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে কাটিমন গাছ থেকে বছরে দুই থেকে তিনবার আম সংগ্রহ করা যায়। এটিই অন্যান্য জাতের সঙ্গে কাটিমনের মূল পার্থক্য। অন্য অধিকাংশ জাতের নির্দিষ্ট একটি মৌসুমে ফলন হলেও কাটিমন একাধিকবার ফলন দেয়।”

রেজাউল করিম আরও বলেন, কাটিমনের স্বাদ প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। তবে মৌসুমের বাইরে বাজারে পাওয়া যাওয়ায় এর বাজার সম্ভাবনা বেড়েছে। নওগাঁ থেকে অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি কাটিমন আমও বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে কাটিমনের ফলন হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ টন। ২৫৫ হেক্টর জমি থেকে মোট ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি কাটিমন আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গড় দাম প্রায় ১৮০ টাকা। চলতি দাম ও সম্ভাব্য উৎপাদনের ভিত্তিতে এ বছর কাটিমন আমের আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে।

সাধারণত জুনের মধ্যেই দেশে আমের মূল মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তবে আশ্বিনা, বারি-৪, গৌড়মতি ও কাটিমনের মতো দেরিতে ফলন দেওয়া জাতগুলো এরপরও বাজারে আসে।

মৌসুমি আমের বাজার যখন অনেকটাই স্তিমিত, তখন কাটিমনের দীর্ঘ সময়ের ফলন নওগাঁর কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভালো দাম, একাধিকবার ফলন এবং সারা বছর কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় জেলার কৃষকেরা এখন ক্রমেই কাটিমন চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

বিষয়: আমবাজারনওগাঁ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।