Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ১০০ দিন: কী কী করল মোদি সরকার

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ০২
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ১০০ দিন: কী কী করল মোদি সরকার
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা। ছবি: ফেসবুক

বছরের পর বছর ধরে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠনটির অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে, মিছিলে লোক দেখাতে তাদেরকে বাইরে থেকে মাঝবয়সী কর্মীদের ডেকে আনতে হতো। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার পরিস্থিতি বদলে যায়।

Advertisement

আগস্ট মাসে দলীয় শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একদল ছাত্র বামপন্থী প্রতিপক্ষদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের পতাকা ও পোস্টার পুড়িয়ে দেয়। এমনকি এক মন্ত্রী এই ধরনের আরও আকস্মিক হামলার উসকানি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্র ক্ষোভের সাথে জানায়, “টাকা আর পেশিশক্তি— দুটোই এখন ওদের হাতে, আর এগুলো দিয়েই ওরা পুরো ক্যাম্পাস দখল করতে চাইছে।”

এতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ ছিল বিজেপির আদর্শের একদম বিপরীত— ধর্মনিরপেক্ষ, বামপন্থী ধারায় বিশ্বাসী এবং ব্যবসাহীন স্থবির এক রাজ্য। তাই এখানে প্রথমবারের মতো জয় পাওয়াটা বিজেপির জন্য দারুণ এক আনন্দের বিষয় ছিল। তবে এই ভিন্ন মতাদর্শের কারণেই, ভারতে ১২ বছরের শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গকে সামলানো বিজেপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দলটি। ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গত ১৭ আগস্ট। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে, বিজেপি এখন পর্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙা করার চেয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংঘাত জিইয়ে রাখাকেই সুবিধাজনক ভাবছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
পশ্চিমবঙ্গবাসীদের থেকে আর কী কী কেড়ে নেবে বিজেপি?SIR india

কয়েক দশক ধরে কমিউনিস্ট এবং পরবর্তীতে আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় একইভাবে রাজ্য চালিয়েছে। তাদের ঘুষের প্রতি লোভ আর ব্যবসার প্রতি অনীহা ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিল্পসমৃদ্ধ এই রাজ্যটিকে শেষ পর্যন্ত এক অসাধু ও প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট রাজে’ পরিণত করে। মে মাসের নির্বাচনে তৃণমূলের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ও মোদির কঠোর সমালোচক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে যান। তবে সাধারণ মানুষ যে খুব ভালোবেসে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে তা নয়, বরং তারা ভোট দিয়েছে তৃণমূলের দুর্নীতি ও গুন্ডামির বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ মেটাতে।

রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার দুটিই এখন বিজেপির দখলে। ফলে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের দীর্ঘদিনের চরম তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক এখন বেশ স্বাভাবিক। এর ফলে কলকাতায় মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণসহ আটকে থাকা বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ আবারও গতি পেয়েছে। রাজ্য নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রেল খাতের উন্নয়নে ১ লাখ কোটি রুপি (প্রায় ১০.৫০ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিল্লির কেন্দ্র সরকার।

তবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ফের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী এবং এক সময়ের স্বাধীনচেতা বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্তের ভাষায়, “আমি একটি বড় এবং স্মরণীয় বিনিয়োগের খোঁজে কাজ করছি।”

পশ্চিমবঙ্গে মমতার ভরাডুবি যেসব কারণেmamata banerjee 4

তেমন একটি বড় সাফল্য হতে পারে ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপকে একটি বড় উৎপাদন কারখানা নিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনা— যারা প্রায় দুই দশক আগে রাজ্যে গাড়ি কারখানা তৈরির প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছিল, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন আন্দোলনের মুখে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের সাথে ভালো ব্যবহারের কথা বলা হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ ও খাদ্যরসিক বাঙালির ওপর নিজেদের হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে নতুন সরকার বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিমের এই রাজ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, “আমি হিন্দুদের স্বার্থে কাজ করব।”

এরপর থেকেই সরকারি রাস্তায় মুসলমানদের নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং হালাল মাংস বিক্রির নিয়ম কঠিন করে ফেলা হয়েছে।

এছাড়া ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ তাড়ানোর তোড়জোড়ে এমন অনেক মুসলিমদেরও সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যারা আসলে ভারতেরই বৈধ নাগরিক। এমনকি স্কুলে দুপুরের খাবারে ডিম দেওয়া বন্ধের এক সাময়িক প্রচেষ্টা সাধারণ হিন্দু সমাজকেও ক্ষুব্ধ করে তোলে, কারণ, উত্তর ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের মতো নিরামিষাশী চর্চা এখানকার সিংহভাগ হিন্দু মানেন না। তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের অতিরিক্ত তোষণ করেছেন বলে বহু মানুষের অভিযোগ ছিল সত্য, কিন্তু বিজেপি সরকারের কারণে পশ্চিমবঙ্গের এই মেলবন্ধনের সংস্কৃতি নষ্ট হোক— তা খুব কম মানুষই চান।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: বদলে যেতে পারে ভারতের বাংলাদেশ নীতিbjp

বিরোধী শিবিরকে নিজেদের দলে ভেড়াতেও চেষ্টার কমতি রাখেনি বিজেপি। দিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদে তৃণমূলের ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জনই এখন মোদির জোটের সঙ্গী। রাজ্য বিধানসভাতেও একই চিত্র। ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে এক পৃথক দল গড়ে তুলেছেন, যারা রহস্যজনকভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে একদম মুখ খোলে না।

সমালোচকদের মতে, কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাত থেকে বাঁচতেই মূলত তাদের এই দলবদল। পরিস্থিতির নির্মমতা প্রকাশ পায় গত ১৬ই আগস্ট, যখন দলীয় কার্যালয়ে মমতা-অনুরাগী এক নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। নিজের শেষ চিঠিতে তিনি পরিবারকে আকুতি জানিয়ে বলে যান, তারা যেন ভুলেও কখনো রাজনীতিতে না জড়ায়।

২০২৯ সালের সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গে বড় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি বা সফল ‘কিছু’ করতে মরিয়া বিজেপি। রাজ্যের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশই যেখানে দিল্লির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এত অল্প সময়ে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গকে সব সময় ওপরের দিকেই রাখতে হবে। দলটির সামনে দ্বিতীয় বড় সংকটটি দাঁড়িয়েছে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে স্থান দেওয়া নিয়ে। দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো এসব দলছুট নেতার কারণেই সাধারণ ভোটার কিংবা বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘রাজ্যে নতুন এক শুভ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে’—এ বার্তা পৌঁছানো এখন বিজেপির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

(ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনূদিত)

বিষয়: সরকারনরেন্দ্র মোদিপশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনবিজেপিপশ্চিমবঙ্গ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।