হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার, অনলাইনে হয়রানি এবং শিশুদের প্রতি হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সাইবার আইন করার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে দলটি সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা না হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে এবি পার্টি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ বা সরকারের সমালোচনা করার কারণে নাগরিকদের যেন গ্রেপ্তার না করা হয়।
ফুয়াদ বলেন, আইন এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যেখানে রাজনৈতিক সমালোচনা বা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক সরকারকে আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সঙ্গে জড়িত ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার অধ্যাদেশের ইতিবাচক বিধানগুলো কেন পরিবর্তন করা হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে ফুয়াদ বলেন, মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয় যে সমালোচকদের চুপ করিয়ে দেওয়া বা ‘দমন করার’ হাতিয়ার হিসেবে এসব সাইবার আইন করা হচ্ছে।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, সাইবার অপরাধী এবং সরকারের সমালোচক মৌলিকভাবে ভিন্ন।
আল মামুন রানা বলেন, সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে রাজনৈতিক ভিন্নমতকে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া।