
চিররঞ্জন সরকার
লেখক ও গবেষক
সকল লেখা

চড়ের মহিমা ও বিপদ
চড় জিনিসটা বড় অদ্ভুত। এক টুকরো হাতের তালু, কয়েক আউন্স রাগ, সামান্য সাহস আর এক মুহূর্তের সিদ্ধান্ত—ব্যস, ইতিহাস তৈরি! কেউ চড় মেরে বীর, কেউ চড় খেয়ে শহীদ, কেউ আবার চড়ের ভিডিও ভাইরাল করে রাতারাতি তারকা।

তুলসি মালা গলায় দিয়ে চলছি বৃন্দাবন
আমরা এখন খুব ভালো আছি। এতটাই ভালো আছি যে ভালো থাকার ভারে কোমর বেঁকে যাওয়ার উপক্রম। দেশের মানুষ না খেয়ে আছে, কিন্তু রাষ্ট্রের পেট ভরা।

চাঁদা বনাম ভিক্ষা
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন কর্মসূচির অভাব কখনো ছিল না। কখনো মিছিল, কখনো সমাবেশ, কখনো মানববন্ধন, আবার কখনো হরতাল-অবরোধের মতো পরীক্ষিত অস্ত্রের মহড়া চলে। তবে এসব কর্মসূচির একঘেয়েমি কাটিয়ে রাজনীতিতে নতুনত্বের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা এবার যেন আবিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। বিএনপির

জ্বালানি তেলের দাম, সত্য ও মিথ্যা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হচ্ছে, দাম বাড়ল কেন? কিন্তু আমাদের এখানে প্রশ্নটি করার আগেই উত্তর হাজির: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে। ব্যস, হিসাব শেষ। অথচ জ্বালানি তেলের হিসাব এত সরল নয়। বরং এই সরলীকরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে আসল

ছাগল নিয়ে শঠতা
কাঁঠালগাছে দেশটা ভরে গেলে এই দেশ ভরে যাবে ছাগলে—এ রকম একটা ভাবনা কি আমাদের মনে সঙ্গোপনে ছিল? হতেও পারে। তা না হলে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পর ছাগল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কেন?

বিভুরঞ্জন সরকার: এক নির্ভীক সাংবাদিকের অমীমাংসিত বিদায়
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় কিছু মানুষ থাকেন, যাদের পরিচয় কেবল তারা কোথায় চাকরি করেছেন, কতটি লেখা লিখেছেন কিংবা কতটি বই প্রকাশ করেছেন, তার হিসাব দিয়ে শেষ করা যায় না। তাদের মূল্যায়ন করতে হয় তারা কোন সময়ে লিখেছেন, কী নিয়ে লিখেছেন, কীভাবে লিখেছেন এবং তাদের লেখার ভেতর দিয়ে সময়কে কতটা ধারণ করতে পের

রঞ্জন কর্মকার: আদর্শ ও মানবাধিকার যোদ্ধার জীবন
রঞ্জন কর্মকারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল একান্ত ব্যক্তিগত স্নেহ, শ্রদ্ধা ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার। বিভুদার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি আমাদের পরিবারেরও একজন হয়ে উঠেছিলেন। আমার প্রতি তার আচরণ ছিল সবসময় অগ্রজের মতো—স্নেহশীল, আন্তরিক এবং পরামর্শদানে উদার।

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা…
‘চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা’—ছোটবেলায় প্রবাদটি শুনে মনে হতো, এটি বুঝি অলস ছাত্রদের সান্ত্বনার বাণী। বড় হয়ে বুঝলাম, এটি আসলে আমাদের সময়ের সবচেয়ে সফল অর্থনৈতিক তত্ত্ব। অর্থনীতির বইয়ে এর উল্লেখ নেই, কিন্তু বাস্তবের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এর প্রয়োগ বিস্ময়করভাবে সফল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্

রঙ-বাজ শিক্ষক, বর্ণহীন বিদ্যা
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,/ জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর/ আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী/ বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি’– রবীন্দ্রনাথ নিশ্চয়ই এমন এক দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে শিক্ষকের পরিচয় হবে তার জ্ঞান, গবেষণা ও মানবিকতা।

গণতন্ত্র থাকুক-না থাকুক, ভিডিওতন্ত্রের রমরমা চলছে
আমরা এখন অডিও পেরিয়ে ভিডিও সভ্যতায় উন্নীত হয়েছি। দেশে গণতন্ত্র কতটা আছে, সেটা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা তর্ক করতে পারেন। কিন্তু ভিডিওতন্ত্রের যে রমরমা চলছে, এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই।

লেডিস ফার্স্ট তো অনেক হলো, এবার জেন্টলম্যান ফার্স্ট হোক!
পরিকল্পনাটা ছিল মহাকাব্যিক। সমাজ যখন তাদের প্রেম মেনে নেবে না, তখন তারা সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যমুনার বুকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেবেন। ইতিহাসে লেখা থাকবে, “দুই প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।”

বর্ষা, মধ্যবিত্ত রোমান্টিকতা ও ছাতা
সবশেষে দেখা যায়, এই দেশে সবারই কোনো না কোনো ছাতা আছে। শুধু নেই আমজনতার। তারা নিজেরাই যেন ব্যাঙের ছাতা; বর্ষায় হঠাৎ জন্মায়, রোদ উঠলে শুকিয়ে যায়, আর ক্ষমতার পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মিলিয়ে যায়।

পরীক্ষা চলিতেছে, পরীক্ষার্থী নিখোঁজ
তারা পরীক্ষা দেয়নি বলে আমরা অবাক। বরং অবাক হওয়া উচিত, এত বছর ধরে একই নাটক দেখে, একই প্রতিশ্রুতি শুনে, একই প্রশ্ন মুখস্থ করে, একই লাইনে দাঁড়িয়ে, একই হতাশার গল্প শুনেও এত মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, এইবার হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটবে! বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা আর নদী নয়, এটা মরীচিকা।

থার্ডক্লাস লেখক ও ফার্স্টক্লাস বিচারক
কোনো লেখককে ‘থার্ডক্লাস’ বলার আগে হয়তো একটু থামা দরকার। কারণ সাহিত্য শেষ পর্যন্ত আদালত নয়, যেখানে একজন বিচারক হাতুড়ি পিটিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। সাহিত্য বরং একটি দীর্ঘ, অন্তহীন কথোপকথন– যেখানে শেষ কথা বলে পাঠক, আর সর্বশেষ রায় দেয় সময়।

‘শহীদ’ বিভ্রাট ও সংসদীয় মাথাব্যথা
সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় এমপিরা যখন এমন বেপরোয়া, লাগামহীন বক্তব্য দেন, তখন মনে হয়–সংসদ কোনো আইনসভার অধিবেশন নয়, বরং এটি একটি ‘স্ট্যান্ড-আপ কমেডি’র মঞ্চ। যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আসেন, মাইক্রোফোন নেন, মনগড়া রূপকথা শোনান, এবং শেষে ধরা খেলে বলেন, “সরি ভাই, মাথায় একটু ব্যথা ছিল!”

আপনি কার লোক?
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে প্রশ্ন করাকে সন্দেহ করতে শিখেছি। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়ার আগে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাই। যেন প্রশ্নের সত্যতা নয়, প্রশ্নকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ই আসল বিষয়।

ট্রাম্প কয় নেতানিয়াহুরে, তুই একটা পাগল!
নেতানিয়াহুর উচিত, রবীন্দ্রসংগীত শোনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো বলেই গেছেন, “যে তোরে পাগল বলে তারে তুই বলিস নে কিছু...।” কাজেই, নো চিন্তা, ডু ফুর্তি!


